দায়ীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, মানববন্ধন

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সিসিটিভি মোছার অভিযোগ

  • পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদলের হামলায় ১০ সাংবাদিক আহত
  • হামলাকারীদের রক্ষায় সিসিটিভি ফুটেজ মোছার অভিযোগ
  • ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সিসিটিভি মোছার অভিযোগ
৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৪  

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে গুরুতর ৪ জনসহ অন্তত ১০ জন গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অপরাধীদের শনাক্ত করার মূল ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে; যদিও প্রযুক্তিগত ত্রুটির দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। 

৫ অক্টোবর এ ঘটনায় মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্বিবিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। মানবন্ধন থেকে জানানো হয়, হামলার ঘটনায় হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে শনাক্ত করতে প্রাধ্যক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করেন ক্যাম্পাসের সাংবাদিকরা। তবে প্রাধ্যক্ষ তা সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানালে ডিজিটাল এভিডেন্স বা তথ্যপ্রমাণ গায়েবের শঙ্কায় সিসিটিভির স্টোরেজ হার্ডডিস্কটি খুলে আনেন সাংবাদিকরা। পরে হার্ডডিস্ক বিশ্লেষণ করে দেখা যায় তাতে হামলার সময়ের কোনো ফুটেজ অবশিষ্ট নেই। সাংবাদিকদের অভিযোগ, জড়িতদের আড়াল করতে তাৎক্ষণিকভাবে মেমোরি থেকে সব ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে।

রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম জানান, গুরুতর হামলার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলেও প্রাধ্যক্ষ তা দিতে চাননি। পরে হার্ডডিস্ক এনে দেখা যায় ফুটেজ নেই। অপরাধীদের বাঁচাতেই প্রাধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়েছে। তিনি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী এবং ফুটেজ বিনষ্টকারী—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান জানান, উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ চলায় সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল; ফলে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং হয়নি। ফুটেজ ডিলিটের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম জানান, তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজসহ সমস্ত ডিজিটাল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে সাংবাদিক মীর কাদির জানান, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিজস্ব ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত করতে এই প্রমাণই যথেষ্ট। বিচার নিশ্চিতের দাবিতে সোমবার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিকরা। 

৪ অক্টোবর, রবিবার ক্যাম্পাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব দেন। এতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

//ডিবিটেক/এমকেআর/এসএমপি/ডিপিও//