ডিআইইউতে ইনকিউবেশন বুটক্যাম্প ও রিফর্ম ল্যাব
প্রেনিউর ল্যাবের ‘স্টার্ট করো’ গড়ছে নতুন উদ্যোক্তা
- ডিআইইউতে অনুষ্ঠিত স্টার্টকরো সিজন-৫ ইনকিউবেশন ও পলিসি ল্যাব
- ধারণা যাচাই থেকে এমভিপি তৈরিতে ৬০ শিক্ষার্থীর অংশ
- এআই হাব ও নীতি সংস্কারে প্রান্তিক স্টার্টআপ প্রসারের উদ্যোগ
দেশে প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিকাশ, উদ্ভাবনী ধারণা যাচাই এবং তরুণদের সরাসরি মিনিমাম ভায়াবল প্রোডাক্ট (এমভিপি) তৈরিতে দক্ষ করে তুলতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ক্যাম্পাস ইনকিউবেশন বুটক্যাম্প ও স্মার্ট পলিসি রিফর্ম ল্যাব’। প্রেনিউর ল্যাব ইয়ুথ অ্যান্ড ইনোভেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে এবং অ্যাটলাস নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্টার্টকরো সিজন-৫’-এর অংশ হিসেবে এই বিশেষ উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) দিনব্যাপী এই কারিগরি আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী ও উদীয়মান তরুণ উদ্যোক্তা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এর আগে একই প্রাতিষ্ঠানিক মডেলে সাভার, রংপুর, সিলেট ও বরিশালের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ইনকিউবেশন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মেন্টর হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন স্টার্ট২স্কেলআপের পরিচালক আলামিন প্রান্ত এবং প্রেনিউর ল্যাবের অপারেশনস ও অ্যাডমিন প্রধান এম. আশরাফুল তানভীর। কর্মশালায় অতিথি বক্তা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন। বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বাস্তবসম্মত আইডিয়া জেনারেশন, ডেটাভিত্তিক বাজার গবেষণা, গ্রাহক চাহিদা নিরূপণ ও প্রাথমিক পণ্য যাচাই শেষে কার্যকর প্রোটোটাইপ বা এমভিপি তৈরির ধাপগুলো হাতে-কলমে সম্পন্ন করেন।
দিনব্যাপী আয়োজিত পলিসি রিফর্ম ল্যাবে তরুণ উদ্যোক্তারা ব্যবসার বিদ্যমান আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন। এতে তুলে ধরা হয় যে লাইসেন্সিং, ট্রেড পারমিট, কর কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের জটিলতা দূর না করলে শুধু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকসই উদ্যোগ গড়ে তোলা অসম্ভব। পাঁচটি ল্যাব থেকে অংশগ্রহণকারীরা ২৬০টির বেশি একক নীতি-সুপারিশ জমা দিয়েছেন, যা সমন্বয় করে ব্যবসা নিবন্ধন, লাইসেন্সের মেয়াদ ও এসএমই অর্থায়নের ওপর একটি বিশদ নীতি গবেষণাপত্র প্রণয়ন করা হবে।
উদ্যোক্তাদের আইনি ও কারিগরি সহায়তায় গত জুলাইয়ে উন্মুক্ত করা হয় ‘স্টার্টকরো এআই হাব’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মটি স্থানীয় প্রেক্ষাপটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন, কর ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা দিচ্ছে, যা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন উদ্যোক্তা ব্যবহার করেছেন।
চলতি বছর পঞ্চম সিজনে এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জনের বেশি উদ্যোক্তা যুক্ত হয়ে ৬০টিরও বেশি কার্যকর নতুন ব্যবসা চালু করেছেন, যা প্রায় ২০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ঢাকাকেন্দ্রিকতা ভেঙে ইনকিউবেশন কার্যক্রম দেশের ১০টি শহরে সম্প্রসারণ এবং তরুণ প্রজন্মকে ব্যবসায়িক নীতি-নির্ধারণে যুক্ত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জাতীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
//ডিবিটেক/আরএইচপি/এসএমই/এমএসআই//





