যশোরে ১৮৩ রেলক্রসিংয়ের ১০১টিই অবৈধ, বাড়ছে প্রাণহানি
যশোর: যশোরে ১৮৩ রেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ১০১টিই অবৈধ। বৈধ্য ক্রসিংয়ের অধিকাংশতে নেই গেটম্যান। এসব ক্রসিংয়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। স্থানীয় চাঁচড়া ও আরবপুর ইউনিয়নের অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন এই লেভেল ক্রসিংয়ের সড়ক। বছরের পর বছর লেভেল ক্রসিংয়ের দাবি জানালেও অরক্ষিত ক্রসিংয়ের কারণে প্রায় ঘটে দুর্ঘটনা। […] The post যশোরে ১৮৩ রেলক্রসিংয়ের ১০১টিই অবৈধ, বাড়ছে প্রাণহানি first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

যশোর: যশোরে ১৮৩ রেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ১০১টিই অবৈধ। বৈধ্য ক্রসিংয়ের অধিকাংশতে নেই গেটম্যান। এসব ক্রসিংয়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন।
স্থানীয় চাঁচড়া ও আরবপুর ইউনিয়নের অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন এই লেভেল ক্রসিংয়ের সড়ক। বছরের পর বছর লেভেল ক্রসিংয়ের দাবি জানালেও অরক্ষিত ক্রসিংয়ের কারণে প্রায় ঘটে দুর্ঘটনা।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যশোর সদরের কৃষ্ণবাটি লেভেল ক্রসিংয়ে বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী রূপসী বাংলা ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে নিহত হন ইজিবাইকচালক আজিজুর রহমান ও যাত্রী এরশাদ আলী। দুর্ঘটনায় আরও দুই যাত্রী আহত হওয়া ছাড়াও দুমড়েমুচড়ে যায় ইজিবাইকটি।
এর আগে, গত ১০ মে অভয়নগর উপজেলার ভাঙাগেটে ট্রেন-ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভাঙাগেট রহমত ওয়েব্রিজের সামনে লেভেল ক্রসিং দিয়ে কয়লাবোঝাই একটি ট্রাক পারাপারের সময় ট্রাকটিতে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী মহানন্দা ট্রেন ধাক্কা দিয়ে প্রায় আধাকিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়। এতে ট্রাকটি দুমড়ে মুচড়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মারা যান চালক মনোয়ার হোসেন। এই ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করে দিন কাটাচ্ছে হেলপার রায়হান।
রেলওয়ে পাকশী বিভাগের পশ্চিমাঞ্চলের তথ্যমতে, যশোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যশোর-বেনাপোল, যশোর-কোটচাঁদপুর ও যশোর-খুলনা রুটের যশোর অংশে মোট রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা ১৮৩টি, যার ১০১টিই অবৈধ। আর বৈধ্য যে ৮২টি রয়েছে তার ৩৮টির নেই কোন গেটম্যান। দুর্ঘটনা ঝুঁকি এড়াতে নামকাওয়াস্তে সর্তকর্তা সাইনবোর্ড বসালেও; বেশির ভাগ বোর্ড লেখা অস্পষ্ট আর নাজুক। অরক্ষিত ক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় মাঝেমধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দুটি দুর্ঘটনায় মারা গেছে পাঁচ জন। আর এক দশকে এই অঞ্চলে ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৫টি। এতে প্রাণ হারিয়েছে ৭৫ জনের। আহত আর পঙ্গুত্ব হয়ে কাটছে অসহায়ত্বের জীবন অসংখ্যা মানুষের। অরক্ষিত ক্রসিং নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
রেলকর্তৃপক্ষের দাবি, যেখানে সেখানে রাস্তা নির্মাণের ফলে বাড়ছে অনুমোদনহীন ক্রসিং। এজন্য স্থানীয়দের পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো দফতরের কর্মকর্তাদের দুষছেন রেল কর্তারা। তবে দায় এড়াচ্ছে এলজিইডিও। তারা বলছে, তাদের অধীনে সড়কগুলোরর রেল ক্রসিংগুলোকে গেটম্যান দিতে রেলবিভাগকে অবহিত করেও কাজে আসেনি। সরকারি এই দুই দপ্তরের সমন্বয়হীনতায় বছরের পর বছর প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ এমনটি অভিযোগ স্থানীয়দের।
যশোর-বেনাপোল রেল সড়কের ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে ২৮টি রেলক্রসিং রয়েছে। এরমধ্যে চারটি স্থান বাদে বাকি ২৪টি স্থানে গেইটবার না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পারাপার হচ্ছেন পথচারীরা। যশোর-কোটচাঁদপুর রুটে খড়কিতে আধা কিলোমিটারে ভেতরে সাতটি লেভেল ক্রসিংয়ের সবগুলো অবৈধ বা অনুমোদিত। এলজিইডি সড়কগুলো নির্মাণের সময়ে এসব ক্রসিংয়ের সৃষ্টি বলে জানান স্থানীয়রা।
খড়কি ধোপাপাড়ার সড়কটি যশোর পৌরসভার দক্ষিণ অংশের বড় একটি মানুষের শহরে প্রবেশদ্বার। এই সড়কের মাঝ দিয়ে চলে গেছে যশোর-কোটচাঁদপুর রেলপথ। ঢাকা-রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গে রেলপথের ব্যস্ততম রেলপথ এটি। অথচ এই ক্রসিংয়েও নেই কোন গেটম্যান। সর্তকর্তা সাইনবোর্ড থাকলেও বোর্ডের লেখা অস্পষ্ট আর নাজুক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে গিয়ে দেখা যায়, রিকশা-ইজিবাইকসহ ব্যক্তিগত যানবাহন ক্রসিং পার হচ্ছে। এরমধ্যে দিয়ে হঠাৎ করেই সাইরেন বাজিয়ে ঝিক ঝিক করে ছুঁটে যাচ্ছে ট্রেন।
সাহেব আলী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রেললাইন পার হতে গিয়ে এখানে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এখানে বড় একটি বাক আছে, ফলে ট্রেন দেখা যায় না। এই স্থানটি খুবই দুর্ঘটনাপ্রবণ।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকবার রেলবিভাগের কাছে দাবি জানালে তারা জানায় এলজিইডির কাছে যেতে। পরে তারাও একে উপরের দায় চাপিয়ে দেন। বছরের পর বছর দুর্ঘটনা ঘটলেও কোন দপ্তর আমলে নেয়নি অভিযোগ স্থানীয়দের।
তফসিডাঙ্গা গ্রামের ভ্যানচালক আলম জানান, এই গেটে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। গেটম্যান না থাকায় আমরা একজন দাঁড়িয়ে গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করি। যখন কেউ থাকে না; তখন ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটেই।
রেলওয়ে যশোর অঞ্চলের সহকারি নির্বাহী প্রকৌশলী চাঁদ আহমেদ বলেন, অবৈধ গেটগুলো ব্যবহারের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে। কোথাও কোথাও এসব ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিং সৃষ্টি করেছে পৌরসভা, এলজিইডি কিংবা স্থানীয়রা। সড়ক নির্মাণের আগে ও পরে আমরা এসব দপ্তরে চিঠি দিয়েও বাড়ছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পথ। এগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘২০১৮ সালে গেটম্যান দিতে রেলবিভাগকে অবহিত করা হয়। সেই চিঠির এখনো কি অবস্থা সেটা আমার জানা নেই।’
বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমিন বলেন, ‘সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে কোন সমান্বয় নেই। ফলে দিন দিন বাড়ছে অবৈধ এসব ক্রসিং। এসব ক্রসিং একেকটা মৃত্যুর ফাঁদ। দ্রুত এসব ক্রসিং বন্ধ করা কিংবা যাতাযাত নিরাপদ করতে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি মানুষদেরও সচেতন হতে হবে।’
The post যশোরে ১৮৩ রেলক্রসিংয়ের ১০১টিই অবৈধ, বাড়ছে প্রাণহানি first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





