সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; জালিয়াতি রোধে ৩ ধাপের নীতিগত পদক্ষেপ
ই-কমার্সে ৫৮ হাজার অভিযোগ ও পাওনা ৩,৮৬৯ কোটি টাকা
- ভোক্তা অধিদফতরে ৫৮,৭২০টি লিখিত অভিযোগ; মোট দাবি প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা
- ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা ও আলেশা মার্টের বিরুদ্ধে জমা পড়েছে বিপুল অভিযোগ
- জালিয়াতি রোধে ডিবিআইডি রেজিস্ট্রেশনসহ তিন ধাপের আইনি ও ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা বাস্তবায়ন
দেশের ই-কমার্স খাতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে এ পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৭২০টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও সরবরাহকারী বিক্রেতাদের দাবিকৃত পাওনা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
৩০ আগস্ট, রবিবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী উত্থাপিত জন-গুরুত্বসম্পন্ন প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সংসদ অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিগত সময়ে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং এবং আলেশা মার্টসহ একাধিক আলোচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম গ্রাহকদের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ঘটিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ দাখিল হয়।
মন্ত্রী জানান, ই-কমার্স খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফেরাতে এবং প্রতারণামূলক কার্যক্রম বন্ধ করতে সরকার তিন ধাপের সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নির্দেশিকা।
ক্ষতিপূরণ ও আটকে থাকা অর্থ ফেরতের বিষয়ে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করেন যে, ডিবিআইডি (DBID) ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈধ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে, যা অনুমোদনহীন ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে জমা পড়া ৫৮ হাজারেরও বেশি অভিযোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা অর্থ উদ্ধারে আইনি ও প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
//ডিবিটেক/ এমআইএস/ এসএমই//





