এবার নিউজিল্যান্ডে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের বিল উত্থাপন 

এবার নিউজিল্যান্ডে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের বিল উত্থাপন 
২৪ আগষ্ট, ২০২৬ ১৭:৫৮  

নিউজিল্যান্ডে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পার্লামেন্টে একটি নতুন বিল উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। 

নতুন এই প্রস্তাবিত আইন লঙ্ঘন করলে বা নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই বিলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যবহারকারীর সঠিক বয়স যাচাই করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এর জন্য তারা ব্যবহারকারীর পুরোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য, মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি অথবা ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারবে।

শিশুদের মানসিক সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ
এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, নতুন প্রজন্মের শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যে বিষাক্ত প্রভাব পড়ছে, সরকার তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এসব প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তি তৈরি করা প্রযুক্তি এবং নানা সামাজিক চাপ শিশুদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও পড়াশোনাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। 

এর আগে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করেছিল। প্রতিবেশী দেশটির সেই কঠোর নীতির পথ অনুসরণ করেই নিউজিল্যান্ড এই পদক্ষেপ নিল।

রাজনীতি ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
তবে সরকারের এই প্রস্তাবিত বিলটি পার্লামেন্টে পাস হবে কি না তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের জোট সরকারের অন্যতম শরিক দল ‘নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট’ ইতোমধ্যে এই বিলে সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। 

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওই রাজনৈতিক দলের নেতা উইনস্টন পিটার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’–এ এক পোস্টে জানান, এ ধরনের আইনি নিষেধাজ্ঞা দেশের স্বাধীন ধারায় বিপজ্জনক প্রভাব ফেলবে। শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখার দায়িত্ব সরকারের চেয়ে মূলত অভিভাবকদের হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। 

রাজনৈতিক বিরোধিতা ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ সত্ত্বে প্রধানমন্ত্রী লাক্সন জানিয়েছেন, আইনটি শতভাগ নিখুঁত করা সম্ভব না হলেও শিশুদের সুরক্ষায় অন্তত চেষ্টা চালানো অতি জরুরি।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: রয়টার্স