বাংলাদেশ ব্যাংক, আইএফসি ও অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মশালা
বগুড়ায় বাংলা কিউআরে ক্যাশলেস লেনদেন কর্মশালা
বগুড়ায় বাংলা কিউআর কর্মশালা, ডিজিটাল লেনদেনের প্রচার, তৃণমূলে ক্যাশলেস উদ্যোগ
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়াতে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে অর্ধদিবসব্যাপী কর্মশালা। বাংলাদেশ ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও অস্ট্রেলিয়ান সরকারের যৌথ উদ্যোগে রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ বগুড়া শহরের নাজ গার্ডেনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এতে সহযোগিতা করে।
কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পর্কে ব্যবসায়ী, গ্রাহক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা দেওয়া এবং দৈনন্দিন লেনদেনে নগদের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার নির্বাহী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক আ.ন.ম. মঈনুল কবিরের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির চিফ ডিজিটাল অফিসার খালিদ হোসেন বিশেষ অতিথি ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক ইসরাত জাহান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
কর্মশালায় বাংলা কিউআরের ব্যবহার, সুবিধা এবং বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক পারভেজ আনজম মুনীর ও মঈন উদ্দিন। বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রাহক এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দও এতে অংশ নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগের সঙ্গে বগুড়ার এই কর্মসূচির সরাসরি যোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলা কিউআরকে কম খরচের ও পারস্পরিকভাবে ব্যবহারযোগ্য জাতীয় কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে এগিয়ে নিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নীতিগত নথি অনুযায়ী, তখন ৪২টি ব্যাংক, ৭টি মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী এবং ৩টি পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী বাংলা কিউআর সুবিধা দিচ্ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ সালের মুদ্রানীতি পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করা লেনদেন মার্চেন্টের হিসাবে তাৎক্ষণিকভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগর করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য লাইসেন্স দেওয়া বা নবায়নের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর সুবিধা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআর ব্যবস্থা ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা ও অন্যান্য পেমেন্ট ব্যবস্থাকে একই কাঠামোর আওতায় এনে আন্তঃব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ছোট ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআরের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বগুড়ার কর্মসূচিতে তাই শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের ধারণা নয়, বরং স্থানীয় ব্যবসা ও দৈনন্দিন লেনদেনে বাংলা কিউআরকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও ব্যবহারিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে নগদনির্ভর লেনদেনের পাশাপাশি দ্রুত, ডিজিটাল ও আন্তঃব্যবহারযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
//ডিবিটেক/ ডিপিও/ এমইউএম//





