দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চা সম্প্রসারণ নিয়ে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক পরামর্শ সভা শুরু
জলবায়ু-সহনশীল কৃষিতে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর
দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণ বিষয়ে তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক পরামর্শ সভা শুরু করেছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র। সভায় নীতিনির্ধারক, গবেষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা টেকসই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক, গবেষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা। এ লক্ষ্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্র তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক পরামর্শ সভার আয়োজন করেছে।
১৪ জুলাই, মঙ্গলবার, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এ সভায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, গবেষক এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতির মাধ্যমে খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরে বিদ্যমান সুযোগ, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমির অবক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চা কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষির সহনশীলতা বৃদ্ধির একটি টেকসই পথ।
সভার সমন্বয়কারী এবং সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) ড. রাজা উল্লাহ খান সভার উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণ টেকসই খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীবিকার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক জ্ঞান বিনিময় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মূল প্রবন্ধে ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে ভারতের কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি ও খাদ্যব্যবস্থা বিষয়ক প্রধান বিশেষজ্ঞ অংশুমান দাস বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি কেবল কিছু কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয় নয়; এটি এমন একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে, বাহ্যিক উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমায় এবং জলবায়ুজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমদ তরফদার আঞ্চলিক সহযোগিতা, নীতিগত সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
প্রধান অতিথি নেপালের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন সাবনাম শিবাকোটি জাতীয় কৃষিনীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবন, কৃষককেন্দ্রিক উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক জ্ঞান বিনিময় বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সভায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই কৃষি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
//ডিবিটেক/এবিএম/ইডি//





