স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল ও ১০ বছরের কর অব্যাহতি
‘তরুণদের প্যাশন-সৃজনশীলতাই বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে’
দেশের স্টার্টআপগুলোর মধ্যে যে প্যাশন, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা দেখা গেছে, তাতে এরাই আগামীতে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, স্টার্টআপ খাতে সহায়তায় সরকার বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনসহ ১০ বছরের ভ্যাট ও কর অব্যাহতির সুবিধা রেখেছে।
‘দেশের স্টার্টআপগুলোর মধ্যে যে প্যাশন, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা দেখা গেছে, তাতে এরাই যে আগামীতে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই’—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
১৪ জুলাই, মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
উদীয়মান উদ্ভাবনী উদ্যোগকে বৈশ্বিক মঞ্চে নিয়ে যেতে সরকার এবারের বাজেটে পলিসি সহায়তার পাশাপাশি ভ্যাট, কর, শুল্ক ও ডিউটির প্রতিবন্ধকতা দূর করেছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ৫০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি পর্যায়ে থাকা স্টার্টআপগুলোকে আগামীতে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ লক্ষ্যে বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী সেবা ও পণ্য উদ্ভাবনে নবীন উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশে যথেষ্ট প্রতিভাবান ও উৎসাহী তরুণ রয়েছে উল্লেখ করে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, “গত চার মাসে আমি দেশের স্টার্টআপগুলোর মধ্যে যে প্যাশন, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা দেখেছি, তাতে এরাই যে আগামীতে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।”
দায়িত্বগ্রহণের পর স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে তাদের চ্যালেঞ্জ ও বিকাশের পথের বাধা চিহ্নিত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বিবেচনায় স্টার্টআপ খাতে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দিতে এবারের বাজেটে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সহযোগিতায় স্টার্টআপের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১০ বছরের জন্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং একই সময়ের জন্য স্টার্টআপে আয়ের পরিবর্তে মুনাফার ওপর কর নির্ধারণ করা হয়েছে’।
স্টার্টআপ খাতে বৈশ্বিক নেতৃত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই এসব দেশ আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্টার্টআপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যাপল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং এইচপি। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় শীর্ষে রয়েছে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠান। ভারত ও জাপানেও স্টার্টআপগুলো অর্থনৈতিক অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আইফার্মার, শেয়ারট্রিপ, রাফিহাস’স ফ্যাশন হাউজ ও চর্চার মতো দেশীয় স্টার্টআপের সম্ভাবনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল হাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আল মোজাদ্দেদী আলফেছানি এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এসআই//





