বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাত সংযোগে এপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপ বাড়াবে ইউজিসি

উচ্চশিক্ষাকে আরও কর্মমুখী ও বাস্তবভিত্তিক করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি। বিভাগীয় শহরভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-একাডেমিয়া অংশীদারিত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাত সংযোগে এপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপ বাড়াবে ইউজিসি
১৮ জুন, ২০২৬ ১৯:২২  

দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবভিত্তিক ও কর্মমুখী করতে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে, যা তাদের কর্মজীবনে প্রবেশকে আরও সহজ করবে।

১৮ জুন, বৃহস্পতিবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ আয়োজিত ‘শিক্ষা-শিল্পের ঐকতান, কর্মসংস্থানের সমাধান’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এ কে এম মতিনুর রহমান।

ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জন, গবেষণামুখী চিন্তা এবং নতুন জ্ঞান অনুসন্ধানে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ইউজিসির এ সদস্য। তিনি বলেন, শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির একচেটিয়া অধিকার নয়। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অনগ্রসর অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া এবং সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে ইউজিসি কাজ করবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যকার বিদ্যমান ব্যবধান কমিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি মনে করেন, বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশই বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উপায় নিয়ে তারা মতবিনিময় করেন।

//ডিবিটেক/এমজেডআর/ইকে//