ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করে জেলা হাসপাতালকে জনবান্ধব সেবাকেন্দ্রে গড়ে তোলার নির্দেশ
দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা এবং সেবার মান নিশ্চিত করে জেলা হাসপাতালগুলোকে আরও কার্যকর, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
১১ জুলাই, শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে দায়িত্বে অবহেলা বা পেশাদারিত্বের ঘাটতির কারণে কোনো কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা প্রত্যাহারের জন্য যেন কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা না হয়। স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জেলা হাসপাতালগুলোকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। চিকিৎসক সংকট, যন্ত্রপাতির স্বল্পতা, টেকনিশিয়ানের অভাব, জনবল ঘাটতি, লিফটসহ অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জরুরি বিভাগে দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। রোগীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যেই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় সহ-সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল শুধু জেলার নয়, আশপাশের অঞ্চলের মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। তাই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, হাসপাতালটিতে বিদ্যমান জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবার মান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা এবং রোগীদের সেবার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। চিহ্নিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন এবং হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
/ডিবিটেক/এসএমই/ এমআই/





