দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক গড়ে তোলার আহ্বান

সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার রোধে সচেতনতা ও বাকসংযম জরুরি: বিটিআরসি চেয়ারম্যান

  • গত বছর ২৬ হাজার অনলাইন জুয়া সাইট ও ২০ হাজার ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ
  • ছায়া সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের আহ্বান
  • অনলাইন প্রতারণা ও জুয়া দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার
    সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার রোধে সচেতনতা ও বাকসংযম জরুরি: বিটিআরসি চেয়ারম্যান
    ১১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:২৯  

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে নাগরিক সচেতনতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং বাকস্বাধীনতার পাশাপাশি বাকসংযমের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।

    তিনি বলেন, “ফেসবুক এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অনেক ছোট রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ স্থাপন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান এবং বাকস্বাধীনতার পাশাপাশি বাকসংযমও নিশ্চিত করতে হবে।”

    ১১ জুলাই, শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে ‘সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে ডেসটিনি ও ইভ্যালির মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা করেছে। একইভাবে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনের মাধ্যম শনাক্ত করা গেলে অপরাধীদের সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

    তিনি জানান, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া জুয়া প্রতিরোধ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে।

    মো. এমদাদ উল বারী বলেন, গত বছর বিটিআরসি ২৬ হাজার অনলাইন জুয়া ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ২০ হাজার ঘৃণাত্মক ও ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ করেছে।

    তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। ভুয়া তথ্য, গুজব, প্রতারণা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।

    স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন

    বিতর্ক প্রতিযোগিতায় স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

    প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, রোকেয়া পারভীন জুঁই, ড. এস. এম. মোর্শেদ, সাংবাদিক সমীর কুমার দে এবং সাংবাদিক মনির মিল্লাত। পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

    ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির উদ্বেগ

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি-এর চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কিছু অসাধু গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

    তার ভাষায়, এসব অপতথ্য ও উসকানিমূলক কনটেন্টের কারণে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, গণপিটুনি, ভাঙচুর, রক্তপাত এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজের নামে অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে, যা তরুণদের বিপথগামী করছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার বিস্তারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ভিউ-ভিত্তিক কনটেন্ট ব্যবসার নামে ভুয়া তথ্য, গুজব ও অরুচিকর কনটেন্ট প্রচার বন্ধে বিটিআরসিকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

    //ডিবিটেক/এনএ/এসইকে//