দ্বিতীয় দেশ হিসেবে রকেট বুস্টারকে সফলভাবে ফিরিয়ে আনলো চীন

দ্বিতীয় দেশ হিসেবে রকেট বুস্টারকে সফলভাবে ফিরিয়ে আনলো চীন
১১ জুলাই, ২০২৬ ১০:২২  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট বুস্টার অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার এক ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে চীন। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে—চীনের তৈরি ‘লং মার্চ ১০বি’ রকেটের বুস্টারটি আকাশ থেকে ধীরে ধীরে নিচে নেমে সমুদ্রের ওপর নোঙর করা একটি বিশাল জালে সফলভাবে অবতরণ করছে। রকেট প্রযুক্তির ইতিহাসে জাল ব্যবহার করে বুস্টার ক্যাচ করার এমন কৃতিত্ব এই প্রথম।

নিজেদের প্রথম বা মেইডেন ফ্লাইটে অংশ নেওয়া এই রকেটটি তৈরি করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না একাডেমি অব লঞ্চ ভেহিকল টেকনোলজি’ (ক্যাল্ট)। এক বিবৃতিতে ক্যাল্ট জানায়, "এই মিশনটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য এবং এটি মহাকাশে দেশটির যাতায়াত ও সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধিতে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।"

বুস্টারটিকে নিরাপদে ধরে রাখার জন্য ক্যাল্ট সম্পূর্ণ নতুন এবং অভিনব একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন ৯ রকেট যেখানে নিজস্ব ল্যান্ডিং গিয়ার বা পায়ের ওপর ভর করে দাঁড়ায় (কিংবা স্টারশিপের ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল আর্ম ব্যবহার করা হয়), সেখানে লং মার্চ ১০বি রকেটটিকে হুক বা আঁকশির সাহায্যে একটি বিশাল জালে আটকে ধরা হয়েছে। 

ক্যাল্ট-এর দাবি অনুযায়ী, এটি বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রথম প্রযুক্তি। রকেট বুস্টারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং চলতি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এটিকে পুনরায় মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার করা যাবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রকেটটি নিজস্ব ইঞ্জিনের শক্তির সাহায্যে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসে এবং একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় এসে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই সেটি জালে ধরা পড়ে। তবে গ্র্যাপলিং বা আটকে রাখার মূল মেকানিজমটি ভিডিওতে পুরোপুরি স্পষ্ট দেখা যায়নি। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে ক্যাল্ট-এর প্রকৌশলী ও স্টাফদের উল্লাস করতে দেখা যায়।

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে অন্যতম শীর্ষ ‘মহাকাশ শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মহাপরিকল্পনা রয়েছে চীনের। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে রকেটের পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা বা রিইউজেবিলিটি নিশ্চিত করা তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। অবশ্য মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণের সংখ্যার দিক থেকে চীন এখনও আমেরিকার চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বিগত বছরে (২০২৫ সাল) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোট ১৯৩টি অরবিটাল লঞ্চ সম্পন্ন করেছিল (যার মধ্যে ১৬৫টিই ছিল স্পেসএক্সের), বিপরীতে চীনের সফল প্রচেষ্টা ছিল ৯২টি।

এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যাল্ট-এর প্রথম পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট উদ্ধারের সিমুলেশন বা পরীক্ষাটি ব্যর্থ হয়েছিল; সেবার বুস্টারটি মূল রিকভারি প্ল্যাটফর্ম থেকে ২০০ মিটার দূরে সমুদ্রে আছড়ে পড়েছিল। এছাড়া বেইজিং-ভিত্তিক চীনের আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ল্যান্ডস্পেস’ তাদের ‘ঝুচ্যু-৩’ রকেটের জন্য স্পেসএক্সের মতো মেকানিক্যাল লেগ বা পায়ের সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষা চালিয়েছিল। তাদের সেই প্রচেষ্টাও সফলতার খুব কাছাকাছি গিয়ে শেষ মুহূর্তে রকেটটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়, যার ফুটেজ কোম্পানিটি প্রকাশ করেনি।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: এনগ্যাজেট