‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম ঘোষণা করলেন মেয়র মামদানী

‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম ঘোষণা করলেন মেয়র মামদানী
১১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:২৯  

নিউ ইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য যেকোনো অনলাইন সাবস্ক্রিপশন বাতিল করার প্রক্রিয়া আগামী ১ অক্টোবর থেকে অনেক বেশি সহজ হতে যাচ্ছে। সিটির মেয়র জোহরান মামদানী নতুন একটি ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম ঘোষণা করেছেন, যা কার্যকর করবে সিটির ‘ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন’। এই নিয়মের অধীনে সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের জন্য "সহজ ও সরাসরি সাবস্ক্রিপশন বাতিলের" সুবিধা দিতে বাধ্য থাকবে।

সহজ কথায়, এই নিয়ম চালুর পর কোনো কোম্পানি এমনটা করতে পারবে না যে—অনলাইনে দু-একটি বক্সে ক্লিক করেই খুব সহজে সাবস্ক্রিপশন নেওয়া বা সাইন-আপ করা যাবে, কিন্তু তা বাতিল করার সময় গ্রাহককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাস্টমার কেয়ারে ফোন দেওয়া বা জটিল কোনো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করা হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পাশাপাশি মেয়রের এই নতুন পদক্ষেপটি মূলত ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান লিনা খানের নেওয়া একটি প্রস্তাবিত সুরক্ষানীতিকে পুনরায় বাঁচিয়ে তুলল, যা গত বছর বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

মেয়রের ঘোষণা অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক সিটির এই নতুন আইনি সুরক্ষাটি মূলত "স্বয়ংক্রিয় নবায়ন এবং চলমান সেবা সাবস্ক্রিপশন"-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কোম্পানিগুলোকে তাদের সাবস্ক্রিপশনের সমস্ত শর্তাবলী গ্রাহকদের কাছে একদম পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করতে হবে। তদুপরি, এই নিয়মে বলা হয়েছে- সাবস্ক্রিপশনের অংশ হিসেবে গ্রাহককে প্রথমে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছিল এমন কোনো পণ্য ফেরত নেওয়ার জন্য কোম্পানিগুলো পরবর্তীতে কোনো টাকা বা ফি দাবি করতে পারবে না।

কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে, তাদের গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং প্রতি লঙ্ঘনের জন্য সর্বনিম্ন ৫২৫ ডলার থেকে জরিমানা শুরু হবে। এই নিয়মটি সুনির্দিষ্টভাবে নিউ ইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য প্রযোজ্য হলেও, কনজিউমার প্রটেকশন বিভাগ উল্লেখ করেছে যে এটি নিউ ইয়র্ক স্টেট বা রাজ্যের বিদ্যমান আইনের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা অটো-রিনিউয়াল সাবস্ক্রিপশন বাতিলকরণের নোটিশ গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে।

এই ক্লিক-টু-ক্যানসেল নিয়মের পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক সিটি আরেকটি প্রস্তাবিত ‘জাঙ্ক ফিস’ (লুকানো বা অতিরিক্ত ফি) সংক্রান্ত নিয়মও যুক্ত করতে যাচ্ছে, যা আগামী ৭ আগস্ট থেকে জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এই নিয়মের লক্ষ্য হলো—যেকোনো পণ্য বা সেবার মূল দামের সাথে পরে যুক্ত হওয়া সমস্ত লুকানো ও বাধ্যতামূলক ফি আগে থেকেই বন্ধ করা এবং কোম্পানিগুলোকে পণ্যের সম্পূর্ণ আসল দামটি শুরুতেই বিজ্ঞাপনে দেখাতে বাধ্য করা। মেয়র মামদানী করপোরেট শোষণ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, এফটিসি-র সাবেক প্রধান লিনা খান (যিনি নিজেও জাঙ্ক ফি এবং ক্লিক-টু-ক্যানসেল নিয়ে কাজ করেছিলেন) মামদানীর মেয়র পদে দায়িত্ব হস্তান্তরের অন্তর্বর্তীকালীন কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) দেশজুড়ে একটি জাতীয় ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম কার্যকর করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে কমিশন পুনর্গঠিত হওয়ার পর এবং এইটথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের বিচারকেরা নিয়মটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দেশব্যাপী সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তবে ফেডারেল পর্যায়ে বাতিল হলেও বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া, ইউটা, আইডাহো, ম্যাসাচুসেটস, জর্জিয়া, মিনেসোটা, কলোরাডো, ইলিনয় এবং আরকানসাসের মতো বেশ কয়েকটি মার্কিন অঙ্গরাজ্যে নিজস্বভাবে এই ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: এনগ্যাজেট