বিজ্ঞাপন নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে এফটিসির মামলা
অনলাইন বিজ্ঞাপনের মূল্য গোপনে বাড়িয়ে শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি কেন্দ্রীয় আদালতে দায়ের করা এই যৌথ মামলায় এফটিসির সঙ্গে সরাসরি অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি রাজ্য।
মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে অ্যামাজন তাদের অনুসন্ধান পাতার বিজ্ঞাপন বিক্রির নিলামে কারচুপি করে গ্রাহকদের অজান্তেই অন্তত ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে।
গোপন কৌশলে দাম বাড়ানোর অভিযোগ
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, অ্যামাজনে পণ্য অনুসন্ধানের সময় ভেসে ওঠা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী নিলামের স্বাভাবিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণভাবে এসব ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণের আন্তর্জাতিক রীতি থাকলেও, অ্যামাজন তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নিলামে হস্তক্ষেপ করে বিজয়ী বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে সর্বোচ্চ দরই দাবি করেছে।
এই গোপন পদ্ধতির ফলে প্ল্যাটফর্মটিতে নিয়মিত পণ্য প্রচার করা অন্তত ১২ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ছোট-বড় বিক্রেতারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনী খরচ বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়েছে বলে দাবি করেছে এফটিসি।
অভিযোগ অস্বীকার ও অ্যামাজনের বক্তব্য
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে সিয়াটলভিত্তিক এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এক বিবৃতিতে অ্যামাজন জানিয়েছে, তাদের নিলাম ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং সেখানে বিজয়ী বেছে নিতে দরদামের চেয়ে পণ্যের প্রাসঙ্গিকতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়।
উল্টো ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতি ক্লিকে বিজ্ঞাপনের গড় ব্যয় বাড়েনি দাবি করে অ্যামাজন জানায়, তাদের প্রযুক্তির কারণে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রায় ৮০০ কোটি ডলার সাশ্রয় হয়েছে।
বর্তমানে গুগল ও মেটার পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অ্যামাজন। তবে এই নতুন আইনি জটিলতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম প্রায় আড়াই শতাংশ কমে গেছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





