প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সর্বজনীন হেলথ কভারেজের পথ প্রশস্ত করবে
দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের মাধ্যমে সর্বজনীন হেলথ কভারেজের পথ প্রশস্ত করতে হবে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। ইউনিসেফের সহায়তায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ইউএইচসি ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংলাপে এমন পরামর্শ উঠে আসে খাত সংশ্লিষ্টদের কণ্ঠে।
বৈঠকে আইন ও বিধি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ববোধ এবং শক্ত রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ২১ জানুয়ারি, বুধবার পিএইচসি খসড়া আইন নিয়ে একটি উচ্চ-স্তরের নীতি সংলাপে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। অগ্রগতি হলেও পিএইচসি সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের জন্য আরও জোরালো উদ্যোগ দরকার। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (পিএইচসি) সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হলেও সফল বাস্তবায়নের জন্য আরও অব্যাহত অ্যাডভোকেসি এবং সংশোধন প্রয়োজন।
ব্র্যাকের সিনিয়র পরিচালক আকরাম হোসেন বলেন, “স্বাস্থ্যকে একটি মৌলিক রাজনৈতিক অঙ্গীকারে পরিণত করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকে স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। স্বাস্থ্যখাতে সেবার বিস্তার ও মান—এই দুটিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।”
তিনি বর্তমানে হেলথকেয়ার ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মনে করেন না। এছাড়া জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে মানের দিক থেকে সমমান করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোমানা হক বলেন, “প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও কাঠামো সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোতে কতজন চিকিৎসক থাকবেন এবং স্বাস্থ্যসেবা টিমে কারা থাকবেন—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।” তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুসংজ্ঞায়িত মডেল নির্ধারণ না হলে বিক্ষিপ্ত উদ্যোগ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। কোন সেবাকে প্রাইমারি হেলথকেয়ার বলা হবে, কোনটিকে নয়—এ বিষয়েও স্পষ্টতা নেই, যা সংস্কার প্রক্রিয়া ধীর করছে।
অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনিকলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি রওশন আরা বেগম বলেন, “দেশে বর্তমানে ৯–১০ হাজার প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগালে মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় বড় অগ্রগতি সম্ভব। স্বাস্থ্যখাত এগিয়ে নিতে হলে মাতৃস্বাস্থ্যকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
পিপিআরসির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (পিএইচসি) সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের জন্য আরও জোরালো উদ্যোগ দরকার। সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, খসড়া পিএইচসি আইন দেশের স্বাস্থ্য সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পুনঃকেন্দ্রীভূত করার ভূমিকা নিশ্চিত করে। তারা বলেন, যদিও এই খসড়াটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখিয়েছে, তবে এটি আরও কার্যকরীভাবে বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত অ্যাডভোকেসি এবং সংশোধনের প্রয়োজন।
ডিবিটেক/ইকে/এমইউ/







