ফল ফাঁস, প্রশ্নে ডিপিইর সাইবার নিরাপত্তা

আগাম ফল ছড়িয়ে প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে বাড়ল বিভ্রান্তি

  • ফলের লিংক আগেই উন্মুক্ত
  • প্রযুক্তিগত ত্রুটির তদন্ত শুরু
  • আনুষ্ঠানিক ফলের অপেক্ষা

আগাম ফল ছড়িয়ে প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে বাড়ল বিভ্রান্তি
৯ জুলাই, ২০২৬ ২০:০৫  

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফল প্রকাশের আগেই ফলাফলের একটি লিংক অনলাইনে উন্মুক্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ সম্ভব না হলেও ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের অংশবিশেষ ছড়িয়ে পড়ে, যা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) এক সরকারি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোডের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে ফল প্রকাশের আগে লিংক উন্মুক্ত না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে অসতর্কতাবশত ফলাফলের লিংক নির্ধারিত সময়ের আগেই সক্রিয় হয়ে যায়। এরপর ব্যবহারকারীরা সেই লিংক থেকে ফলাফল সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।

ডিপিইর আইসিটি শাখার প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, ফলাফলের লিংক তৈরি ও আপলোডের সময় প্রচলিত নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাওয়ার দাবি করে শুভেচ্ছা জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ফল নয়। একই সঙ্গে তারা এটিও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যে ছড়িয়ে পড়া তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। ফলে সরকারিভাবে ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অনলাইনে প্রচারিত তালিকাকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা সরকারি ডিজিটাল সেবায় অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, প্রি-পাবলিকেশন সিকিউরিটি, ইউআরএল ম্যানেজমেন্ট এবং রিলিজ প্রটোকল আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের আগে মাল্টি-স্টেজ ভেরিফিকেশন ও অডিট ট্রেইল নিশ্চিত করার গুরুত্বও আবারও আলোচনায় এসেছে।

এর আগে নিজাম উদ্দিন জুয়েল নামের এক সহকারী শিক্ষক তার কর্মরত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফলাফল ফেসবুকে প্রকাশ করেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। শিক্ষকতা পেশায় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি! বড়কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো পাঁচজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।’  

ফলাফলের একটি পৃষ্ঠা শেয়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দেন অভিভাবক কামরুন নাহার কেয়া। তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমার ভাগনে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।’ তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসি সাক্ষরিত চিঠিতে ৯টি জেলার ফল ওয়েবে আপলোড করায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহাকারি মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মেহাতাব কায়েসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

//ডিবিটেক/ সংবাদ/ সম্পাদনা//