গবেষণাকে পেটেন্ট ও উদ্ভাবনে রূপান্তরের আহ্বান, ডিআইইউতে ৭০০ গবেষককে সম্মাননা

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড গিভিং সিরিমনি ২০২৬’-এ গবেষণাকে পেটেন্ট ও বাণিজ্যিক উদ্ভাবনে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও অ্যালামনাইসহ প্রায় ৭০০ জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

গবেষণাকে পেটেন্ট ও উদ্ভাবনে রূপান্তরের আহ্বান, ডিআইইউতে ৭০০ গবেষককে সম্মাননা
৯ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৪২  

গবেষণার ফল শুধু আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা পেটেন্ট, প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবায় রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণায় অবদান রাখা শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও অ্যালামনাইদের সম্মাননা দিয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)।

এ উপলক্ষে বুধবার (৮ জুলাই) ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির নলেজ টাওয়ারের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড গিভিং সিরিমনি (আরএজিসি) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ নাদির বিন আলী, ট্রেজারার ড. হামিদুল হক খান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মমিনুল হক মজুমদার, লাইব্রেরিয়ান ড. মো. মিলান খানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনভিত্তিক গবেষণা সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রচারিত ভিডিও বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, গবেষণার প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হবে, যখন তা পেটেন্ট, প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবায় রূপ নিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাস্তব অবদান রাখবে। তিনি গবেষণার ফল বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো এবং উদ্ভাবনভিত্তিক গবেষণাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গবেষণাকে সমাজের বাস্তব চাহিদাভিত্তিক হতে হবে, যাতে তা দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিশন অব রিসার্চের পরিচালক ড. মাহফুজা পারভীন জানান, ২০২৬ সালের মধ্যভাগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা ৬৯৫-এ পৌঁছেছে। ২০২২ সালে ১,০১০টি গবেষণা প্রকাশনা থেকে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে তা ১,৪৮৭-এ উন্নীত হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য অংশ স্কোপাস-সূচিভুক্ত কিউ-১ ও কিউ-২ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩৮টি বহিঃঅর্থায়িত গবেষণা প্রকল্প চলমান রয়েছে। গত এক বছরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক উৎস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা প্রায় ৫ কোটি টাকার গবেষণা অনুদান অর্জন করেছেন, যা বৈশ্বিক গবেষণা সহযোগিতা ও উদ্ভাবনী গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গবেষণা সম্মাননা প্রদান। এ বছর শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইসহ প্রায় ৭০০ জনকে গবেষণায় অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়। এছাড়া গবেষণায় বিশেষ অবদান এবং পোস্টার উপস্থাপনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রায় শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং অ্যালামনাইদের সম্মিলিত অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

//ডিবিটেক/বিএন/ইকে//