ওপাস-ক্লাস মডেল গ্রোক ৪.৫ উন্মোচন করল স্পেসএক্সএআই
শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরেই স্পেসএক্সএআই তাদের সর্বশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ‘গ্রোক ৪.৫’ বাজারে ছেড়েছে।
বুধবার প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে স্পেসএক্সএআই তাদের নতুন এই রিলিজটিকে একটি অত্যন্ত কার্যকরী এবং কঠোর পরিশ্রমী বা ‘ওয়ার্কহর্স’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছে। এআই ইন্ডাস্ট্রি বা প্রযুক্তি খাত সাধারণত যেসব দৈনন্দিন কাজকে স্বয়ংক্রিয় করতে চায়—যেমন কোডিং, অ্যাপ তৈরি, দাপ্তরিক কাজ, গবেষণা, লেখালেখি এবং অন্যান্য রুটিনমাফিক জ্ঞানভিত্তিক কাজ—তার সবই দক্ষতার সাথে সামলাতে পারবে এই মডেল।
স্পেসএক্সএআই-এর দাবি অনুযায়ী, গ্রোক ৪.৫ ব্যবহার করতে খরচও অনেক কম পড়বে। কারণ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মডেলের তুলনায় এর “টোকেন কার্যকারিতা বা দক্ষতা দ্বিগুণ”। বাস্তব ক্ষেত্রে যদি এই দাবির সত্যতা মেলে, তবে তা স্পেসএক্সএআই-এর জন্য একটি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করবে; কারণ ইদানীং এআই ব্যবহারকারীদের জন্য ক্রমবর্ধমান টোকেন খরচ একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার কোম্পানিটি কিছু বেঞ্চমার্ক স্কোর বা পারফরম্যান্স মেট্রিক্স প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায় গ্রোক ৪.৫ তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মডেলগুলোর সাথে বেশ ভালোভাবেই প্রতিযোগিতা করছে, যদিও এটি একদম ‘বেস্ট-ইন-ক্লাস’ বা শীর্ষস্থান থেকে সামান্য পিছিয়ে রয়েছে।
ইলনের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এর এক পোস্টে প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক নতুন এই মডেলটিকে অ্যানথ্রোপিকের ‘ওপাস’ মডেলের সাথে তুলনা করেছেন, যা মূলত অত্যন্ত জটিল ও গভীর গবেষণামূলক কাজের জন্য ডিজাইন করা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল।
মাস্ক তার এক্স পোস্টে লিখেছেন, "আমাদের বেটা টেস্টিং প্রোগ্রামে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া দারুণ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে স্পেসএক্সএআই বৃহস্পতিবারই গ্রোক ৪.৫ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে। এটি মূলত একটি ওপাস-ক্লাস মডেল, তবে গতিতে অনেক ফাস্ট, টোকেন সাশ্রয়ী এবং খরচও বেশ কম।"
মাস্ক পরবর্তীতে আরও যোগ করেন, "আমাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, গ্রোক ৪.৫ ক্ষমতার দিক থেকে অনেকটা ওপাস ৪.৭-এর সমকক্ষ, তবে গতিতে তার চেয়ে অনেক এগিয়ে। কার্যক্ষমতা, দ্রুত গতি এবং কম খরচের এই চমৎকার সংমিশ্রণই এটিকে বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।"
স্পেসএক্সএআই জানিয়েছে, তাদের নতুন এই মডেলে প্রতি মিলিয়ন (১০ লাখ) ইনপুট টোকেনের জন্য খরচ পড়বে ২ ডলার এবং প্রতি মিলিয়ন আউটপুট টোকেনের জন্য লাগবে ৬ ডলার। গ্রোকের বাস্তব ক্ষমতা যদি তাদের দাবির সাথে মিলে যায়, তবে এই দামকে বাজারে বেশ সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক বলতে হবে।
এর তুলনায় অ্যানথ্রোপিকের ওপাস ৪.৭ মডেলে প্রতি মিলিয়ন ইনপুটে ৫ ডলার এবং আউটপুটে ২৫ ডলার খরচ হয়। অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের বিভিন্ন সংস্করণের জন্য ধাপে ধাপে দাম নির্ধারণ করা আছে; যেমন তাদের সবচেয়ে দামি মডেল ‘সল’-এর জন্য প্রতি মিলিয়ন ইনপুটে ৫ ডলার ও আউটপুটে ৩০ ডলার লাগে, আর সবচেয়ে সস্তা মডেল লুনার জন্য ইনপুটে ১ ডলার ও আউটপুটে ৬ ডলার খরচ হয়।
চলতি সপ্তাহে এআই মডেলের বাজারে বড় ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। ওপেনএআই-ও তাদের সর্বশেষ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল ‘জিপিটি ৫.৬’ বৃহস্পতিবারই রিলিজ করার পরিকল্পনা করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্বেগের কারণে এর আগে এই মডেলটির মুক্তি আটকে দেওয়া হয়েছিল। ওপেনএআই এটিকে তাদের এ যাবতকালের "সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল" বলে আখ্যায়িত করেছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ





