সংবাদ নিয়ে ৭৬ শতাংশ উত্তরেই ভুল তথ্য দেয় জেমিনি!
প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই সংবাদ নিয়ে জানতে চাওয়া প্রশ্ন কিংবা প্রম্পটের জবাবে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয় কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তায়(এআই) চালিত চ্যাটজিপিটি, গুগল জেমিনি, মাইক্রোসফট কোপাইলট এবং পারপ্লেক্সিটের মতো মডেলগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ত্রুটিযুক্ত তথ্য দেয় জেমিনি।
২২ অক্টোবর, বুধবার প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ) এবং যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এতে ১৮টি দেশের ২২টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মে থেকে জুনের মধ্যে চারটি জনপ্রিয় এআই সহকারীকে একই ধরনের প্রশ্ন করে তাদের উত্তর বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, মোট ৪৫ শতাংশ উত্তরে অন্তত একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি’ ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুল ছিল সূত্র উল্লেখে (৩১ শতাংশ)। এসব তথ্য হয় সূত্রবিহীন, ভুলভাবে উদ্ধৃত, বা যাচাইযোগ্য নয়। এরপর বড় সমস্যা ছিল তথ্যের যথার্থতা নিরূপন করা যা ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল ছিল, এরপর প্রসঙ্গের ঘাটতি ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ ক্ষেত্রে। এরমধ্যে গুগল জেমিনিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা পাওয়া গেছে। এর ৭৬ শতাংশ উত্তরে উল্লেখযোগ্য ত্রুটি ছিল।
সব মডেলই কোনো না কোনোভাবে মৌলিক তথ্যগত ভুল করেছে। যেমন- পারপ্লেক্সিট দাবি করেছে স্লোভাকিয়ায় সারোগেসির তথ্য অবৈধ। আবার পোপ ফ্রান্সিস এখনো জীবিত আছেন বলে তথ্য দিয়েছে চ্যাট জিপিটি যদিও তিনি কয়েক মাস আগে মারা গেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওপেনএআই, গুগল, মাইক্রোসফ্ট এবং পারপ্লেক্সিটি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে আলজাজিরা-কে সাড়া দেয়নি।
প্রতিবেদনের ভূমিকায়, ইবিইউ-এর ডেপুটি জেনারেল জিন ফিলিপ ডি টেন্ডার এবং বিবিসির এআই-এর প্রধান পিট আর্চার প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে তাদের সেবার ত্রুটি কমাতে আরও বেশি কিছু করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "ভাষা এবং বাজার অনুসারে ফলাফল প্রকাশ করে নিয়মিত তাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।"
নতুন গবেষণায় ১৮টি দেশের এবং একাধিক ভাষা গোষ্ঠীর মিডিয়ায় বিবিসির গবেষণার মতো একই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ৩ হাজার এআই এর প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে চারজন এআই সহকারীকে সাধারণ সংবাদ প্রশ্নকরা হয়েছে। "ইউক্রেনের খনিজ চুক্তি কী?" অথবা "ট্রাম্প কি তৃতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন" - এমন প্রশ্নের জবাবগুলো কোন সহকারী তাদের উত্তরগুলি সরবরাহ করেছেন তা না জেনে নিজস্ব দক্ষতা এবং পেশাদার সোর্সিংয়ের ভিত্তিতে উত্তরগুলি পর্যালোচনা করেন গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা।
এরপর আট মাস আগের বিবিসির গবেষণার সাথে তুলনা করলে ফলাফলে কিছুটা সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও বড় ধরনের ত্রুটি স্পষ্ট ছিলো।
এ বিষয়ে জেনারেটিভ এআই-এর বিবিসি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর পিটার আর্চার এক বিবৃতিতে বলেছেন, "আমরা এআই এবং এটি কীভাবে আমাদের ব্যবহারকারীর কাছে আরও বেশি মূল্য আনতে সাহায্য করতে পারে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কেননা, মানুষ যা পড়ে, দেখে এবং দেখে তা বিশ্বাস করতে সক্ষম হয়। কিছু প্রতিনিয়ত উন্নতি সত্ত্বেও, এটা স্পষ্ট যে এই এআই সহকারীগুলিতে এখনও উল্লেখযোগ্য সমস্যা রয়েছে।"







