বিপিপিএ-এর অংশীজন পরামর্শ কর্মশালায় জোনায়েদ সাকী; মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ মেটাতে ঢাকার বাইরেও হবে সংলাপ

সরকারি ক্রয়ে ইজিপি বাধ্যতামূলক

দক্ষ, স্বচ্ছ ও সময়মতো সরকারি ক্রয় নিশ্চিত করতে দেশে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালনা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী এমপি এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ই-জিপি ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারকারীবান্ধব ও দক্ষ করা হবে।

সরকারি ক্রয়ে ইজিপি বাধ্যতামূলক
৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৫  

স্বচ্ছ ও সময়মতো সরকারি ক্রয় নিশ্চিত করতে দেশে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালনা করতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। ৭ জুলাই , মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত "ই-জিপি সিস্টেমের উন্নয়ন, বাধ্যতামূলক ই-জিপি বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি" শীর্ষক দুটি অংশীজন পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী।

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) আয়োজিত ধারাবাহিক অংশীজন পরামর্শ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কর্মশালা দুটি অনুষ্ঠিত হয়। দিনের প্রথম কর্মশালাটি এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে এবং দ্বিতীয় কর্মশালাটি শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশন প্রাঙ্গণে অবস্থিত বিপিপিএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সকালের কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রকল্প পরিচালকেরা অংশ নেন। বিকেলের কর্মশালায় ই-জিপি প্ল্যাটফর্‌ম উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি খাত, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আইসিটি সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উভয় কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, "উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ সময়মতো বাস্তবায়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের একটি বড় অংশই সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে হয়, তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার সুশাসন আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেশের সব সরকারি ক্রয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি বাস্তবায়ন করতে চাই। এজন্য ই-জিপি ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, ব্যবহারকারীবান্ধব এবং সব অংশীজনের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা হবে।"

বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ই-জিপি বাস্তবায়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে বিপিপিএ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে অংশীজন পরামর্শ সভার আয়োজন অব্যাহত রাখবে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও মতামত সংগ্রহের জন্য ঢাকার বাইরেও দ্রুত অংশীজন সংলাপের আয়োজন করা হবে।

আইএমইডি সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, প্রকল্প প্রণয়নের দুর্বলতা অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। তাই সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নত মানসম্পন্ন ফলাফল নিশ্চিত করতে শক্তিশালী সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি উন্নত প্রকল্প পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, কর্মশালা দুটিতে বিপিপিএ-এর পরিচালক জনাব শাহ ইয়ামিন উল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া বিকেলের কর্মশালায় বিপিপিএ-এর সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট জনাব মো. মোশাররফ হোসেন জাতীয় ই-জিপি সিস্টেম উন্নয়নের রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন।

//ডিবিটেক/পিজেইউ/এমআই//