৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯  প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন

হাই-টেক সিটি-২ প্রকল্পে দুই কোটি বিশ লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধি অনুমোদন

হাই-টেক সিটি-২ প্রকল্পে দুই কোটি বিশ লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধি অনুমোদন
১৩ মে, ২০২৬ ১৭:৩১  

নিয়মিত সভায় ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “হাই-টেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ (৩য় সংশোধন)” প্রকল্প রয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সম্পাদনের লক্ষে প্রকল্প ব্যয় দুই কোটি বিশ লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা বাড়িয়ে কালিয়াকৈরের দ্বিতীয় পার্কটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সমাপ্তের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। 

তৃতীয় সংশোধনীর আগে ১ম সংশোধনীতে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৩৪৪ কোটি ৯৩ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে এই ব্যয় ধরা হয়েছিলো তিনশ ৮৪ কোটি ৯৩ লক্ষ ২১ হাজার। তবে সব শেষ তৃতীয় সংশোধনীতে অনুমোদিত এই ব্যয় দাঁড়ালো ৪৩৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকায়। 

প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ১৩ মে, বুধবার মন্ত্রিসভা (কক্ষ নং-১০০, ১০ম তলা, ভবন নং-১) বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফকির মাহবুব আনাম, অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী  মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ;  শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

হাই-টেক সিটি-২ প্রকল্প পরিচালক মো: সিদ্দিকুর রহমান বর্ধিত বরাদ্দে প্রকল্প এলাকায় গ্যাসের লাইন স্থাপন, সাব স্টেশন থেকে সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় তার ক্রয় কেনা এবং সিকিউরিটি টাওয়ার নির্মাণসহ কিছু কাজ করা হবে। তবে অনুমোদন পেতে তিন দফা ফাইল আটকে থাকাসহ এক বছর বিলম্ব হওয়ায় বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে কাজ সম্পাদন কঠিন হয়ে পড়বে। সংশোধিত প্রকল্পের কাজ সম্পাদনে ২০২৭ সালের জুন-জুলাই পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।   

এদিকে একই বৈঠকে আজ অনুমোদন পায় ৩টি নতুন ও ৫টি সংশোধিত প্রকল্প এবং মেয়াদ বাড়ানো হয় একটি প্রকল্পের।  সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২০৪ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা। 

সভায় অনুমোদন প্রাপ্ত অপর প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প, (১) “চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন (২য় সংশোধন)” প্রকল্প (২) “গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ (২য় সংশোধন)” প্রকল্প । স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ  মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, “জেলা শহরে বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নীতকরণ/পুনর্নির্মাণ (প্রথম ফেইজ)” প্রকল্প। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প “সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমনি নিবাস নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ (২য় সংশোধন)” প্রকল্প। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ০১ টি প্রকল্প “সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনে ৪ x এসএম ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প “চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড (পতেঙ্গা হতে সাগরিকা) (৫ম সংশোধিত)” প্রকল্প। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১ টি প্রকল্প (১) পদ্মা ব্যারেজ (১ম পর্যায়)” প্রকল্প। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প “ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য ধনুয়া হতে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধন)” প্রকল্প ।  

বৈঠক সূত্রে প্রকাশ, সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ২টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো: ১. ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, ময়মনসিংহ এর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ২. বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।  

সভায় অনুমোদ প্রাপ্ত প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলো পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।  প্রকল্পটির মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী—এই পাঁচটি নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে।

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রথম ধাপে ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গড়াই-মধুমতী নদী এবং ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার হিসনা নদী ব্যবস্থার ড্রেজিং ও পুনঃখননের কাজও করা হবে।

অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৫টি স্পিলওয়েসহ গড়াই অফ-টেক, ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। পাশাপাশি চন্দনা অফ-টেকে চারটি স্পিলওয়ে, হিসনা অফ-টেকে পাঁচটি স্পিলওয়ে এবং ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হলে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের অন্তত ১৯টি জেলা ও ১২০টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে।

দ্বিতীয় ধাপে অতিরিক্ত সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে।

এই প্রকল্প  বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে এটিই হচ্ছে সরকারের বড় উদ্যোগ।

পদ্মা ব্যারাজের মোট প্রকল্প এলাকা বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা দেশের চারটি বিভাগের ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলায় বিস্তৃত। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৯টি জেলায় এর প্রভাব পড়বে। জেলাগুলো হল: খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলা।

ডিবিটেক/ আইএইচ/ইকে