দুই বছর ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নিকুঞ্জ-২-এর টানপাড়া পশ্চিমপাড়া, স্থায়ী সমাধান চান বাসিন্দারা

অতিরিক্ত লোডে বারবার ট্রিপ করছে ZT100 ট্রান্সফরমার—অভিযোগ এলাকাবাসীর

রাজধানীর নিকুঞ্জ-২-এর টানপাড়া পশ্চিমপাড়ায় প্রায় দুই বছর ধরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো বাসিন্দা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতিরিক্ত লোডের কারণে ZT100 নম্বরের ট্রান্সফরমার বারবার বিকল বা ট্রিপ করছে। যদিও ডেসকো বলছে, বিষয়টি কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে ট্রান্সফরমারের সক্ষমতা বৃদ্ধি বা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত লোডে বারবার ট্রিপ করছে ZT100 ট্রান্সফরমার—অভিযোগ এলাকাবাসীর
৫ জুলাই, ২০২৬ ২০:২৩  

রাজধানীর নিকুঞ্জ-২-এর টানপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় প্রায় দুই বছর ধরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন হাজারো বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) আওতাধীন ZT100 নম্বরের ট্রান্সফরমারটি দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত লোড বহন করছে। ফলে দিনের যেকোনো সময় কিংবা গভীর রাতেও হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগ জানালে ডেসকোর কারিগরি দল এসে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করলেও কয়েক ঘণ্টা বা এক দিনের মধ্যেই একই সমস্যা আবার দেখা দেয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান মিলছে না।

চাহিদা বেড়েছে, বাড়েনি অবকাঠামো

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে এলাকায় দ্রুত নগরায়ণের ফলে বহুতল ভবন ও জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্রিজ, পানির পাম্প, ওভেনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারও বেড়েছে।

তাদের অভিযোগ, এই বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়নি। ফলে বর্তমান ট্রান্সফরমারটি তার সক্ষমতার চেয়ে বেশি লোড বহন করতে গিয়ে বারবার ট্রিপ করছে কিংবা বিকল হয়ে পড়ছে।

‘নিয়মিত বিল দিয়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাই না’

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হ্যাভেন বলেন,

"দুই বছর ধরে আমরা এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছি। দিনে হোক বা রাতে, কখন বিদ্যুৎ চলে যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ছোট শিশু ও বয়স্ক মানুষদের নিয়ে গরমে রাত কাটানো খুবই কষ্টকর। আমরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাই না।"

আরেক বাসিন্দা মতিউর রহমান স্বপন বলেন,

"ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে, গরমে বয়স্ক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, ছোট ব্যবসাগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, শুধু স্থায়ী সমাধান চাই।"

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা, শিক্ষার্থী ও পরিবার

স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ছোট দোকান, দর্জির কারখানা, সেলুন, ফটোকপি ব্যবসাসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিয়মিত ক্ষতির মুখে পড়ছে। অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্পও চালানো যায় না, ফলে পানির সংকট তৈরি হয়।

বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলায় শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেককে চার্জার লাইট, মোমবাতি কিংবা মোবাইল ফোনের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

‘এটি শুধু কারিগরি নয়, সেবার মানের প্রশ্ন’

নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল বলেন,

"রাজধানীর একটি এলাকায় একই সমস্যার সমাধান দুই বছরেও না হওয়া উদ্বেগজনক। একটি এলাকার বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে—এটি ডেসকোর অজানা থাকার কথা নয়। তাহলে সময়মতো ট্রান্সফরমারের সক্ষমতা কেন বাড়ানো হলো না?"

তিনি আরও বলেন,

"বর্তমান ZT100 ট্রান্সফরমারটি বিদ্যমান লোড বহন করতে পারছে না। তাই বারবার সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে।"

ডেসকোর বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাক্কের হোসেন বলেন,

"বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা হবে। যদি ট্রান্সফরমারের সক্ষমতা বৃদ্ধি বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তিনি বলেন, গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করাই ডেসকোর লক্ষ্য এবং এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে।

স্থায়ী সমাধানের দাবি

বিদ্যুৎ খাত–সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে বর্তমান ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার স্থাপন, প্রয়োজন হলে ফিডার লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত লোড অডিট করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে এবার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে ডেসকো। তাদের ভাষায়, রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে বিদ্যুৎসেবা চলতে পারে না।

//ডিবিটেক/এসআই/ইকে//