কেরানীগ‌ঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: দগ্ধ‌দের দেখতে হাসপাতালে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কেরানীগ‌ঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: দগ্ধ‌দের দেখতে হাসপাতালে  শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৪ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৪০  

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাস লাইট তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ অবস্থায় আরও দুজনকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ৪ এপ্রিল, শনিবার দিবাগত রাতে দগ্ধদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

এরআগে বেলা ১টার দিকে কদমতলী ‘ডিপজল গলি’ সংলগ্ন কারখানাটিতে হঠাৎ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকাল ৪টা ৪৪ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। এরপর কারখানার ভেতর থেকে ছয়জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। তবে মরদেহগুলো এতটাই দগ্ধ হয়েছে যে, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো নারী না পুরুষের তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। 

দগ্ধ দুই শ্রমিক— মো. আসিফ (১৪) ও মোহাম্মদ জসিমকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আসিফের শরীরের ১৫ শতাংশ এবং জসিমের ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে। রাতে দগ্ধদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

এরপর রাত ১০টার দিকে শ্রমমন্ত্রীও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

অগ্নিকাণ্ডে আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে যান বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী। এছাড়া রাত ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, গ্যাস লাইট তৈরির কারখানায় রাসায়নিক বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা প্রশাসককেও পৃথক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস লাইট কারখানা পরিদর্শন করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরে তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে চিকিৎসাধীন দগ্ধ শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ডিবিটেক/