শিক্ষামন্ত্রীর টেলিফোনে হস্তক্ষেপে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে নাটোর ও বগুড়ার ১৫ শিক্ষার্থী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের টেলিফোনে হস্তক্ষেপে নাটোর ও বগুড়ায় ফরম পূরণ জটিলতায় পরীক্ষা থেকে বাদ পড়া ১৫ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্ত অফিস সহকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর টেলিফোনে হস্তক্ষেপে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে নাটোর ও বগুড়ার ১৫ শিক্ষার্থী
৩ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪১  

নাটোর ও বগুড়ায় ফরম পূরণসংক্রান্ত জটিলতায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা ১৫ শিক্ষার্থীর বিষয়ে দ্রুত টেলিফোনে হস্তক্ষেপ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা আগামীকাল থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আটজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দিলেও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি আমলে নেন।

এরপর তিনি টেলিফোনে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে তাদের ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ফলে তারা আগামীকাল থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের অর্থ গ্রহণ করলেও তা যথাযথভাবে জমা দেননি। এতে তাদের প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি।

ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী টেলিফোনে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক এবং লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় আব্দুলপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে একজন শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণের অর্থ জমা দিয়েও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভুলের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এছাড়া মহাস্থানগড়ে আরও ছয়জন শিক্ষার্থী একই ধরনের জটিলতায় পরীক্ষার বাইরে ছিলেন।

এ ঘটনাতেও শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দেন। পরে তাদের ফরম পূরণের কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়। ফলে তারাও আগামীকাল থেকে নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

//ডিবিটেক/এসআই/এমআই//