অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আলাদা আইন হওয়ায় বিলুপ্ত হলো ২০ ধারা; ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে বিতর্ক

জাতীয় সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল পাস

অনলাইন ও অফলাইন জুয়া প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হওয়ায় ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ থেকে জুয়া সংক্রান্ত ২০ ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুন, মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলটি উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। বিলটি পাসের সময় সাইবার স্পেসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিন্নমত দমনে আইনের অপব্য

জাতীয় সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল পাস
৩০ জুন, ২০২৬ ২২:২৩  

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর ২০ ধারা বিলুপ্ত করে আইনটিতে সংশোধনী এনে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। ৩০ জুন, মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে বিলটি উপস্থাপনের পর কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন।

এর আগে বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করা হলেও তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ডিজিটাল ও অফলাইন উভয় মাধ্যমের জুয়া এবং বেটিং সংক্রান্ত অপরাধগুলো আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিরোধের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ নামে একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত আইন প্রণয়ন করেছে। ফলে একই অপরাধের জন্য একাধিক আইনের ওভারল্যাপিং বা আইনি জটিলতা এড়াতে সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে ২০ ধারাটি বিলুপ্ত করা হলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, “জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস হওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইনে জুয়া সংক্রান্ত ধারা রাখার আর প্রয়োজন নেই। শুধু এই সেকশনটা সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ থেকে বাদ হবে। এইটুকুই হচ্ছে আইন।” সংশোধনী অনুযায়ী এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’-এর ২০ ধারায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে পোর্টাল, অ্যাপস বা ডিভাইস তৈরি, পরিচালনা, জুয়ায় অংশগ্রহণ, সহায়তা, উৎসাহ প্রদান কিংবা বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়ার অপরাধে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড, অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনেও এই ধারায় কঠোর শাস্তির বিধান ছিল।

সংসদে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক: বিলটি পাসের আগে সংসদে সাইবার স্পেসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি ওঠে এবং আইনটি যাতে বিরোধী মত দমন বা নাগরিক হয়রানির হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

  • রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২): সাইবার স্পেসে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, রাজনীতি বা গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত নারীরা প্রতিনিয়ত সাইবার হয়রানি ও বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। তিনি নারীদের জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস নিশ্চিতে সরকারকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

  • শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫): বিগত সরকারের আমলে সাইবার আইনের অপব্যবহার করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নতুন আইন যেন কোনো স্তরের মানুষের বিরুদ্ধে হয়রানির হাতিয়ার না হয়।

  • মোহাম্মদ আব্দুল গফুর (জামায়াত, কুষ্টিয়া-২): তদন্ত, ডিজিটাল তথ্য জব্দ, অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ ও নাগরিকের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বাধীন বিচারিক তদারকি কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে যথেষ্ট সুরক্ষা আছে কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান।

  • এছাড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের জিএম নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালও এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

  • শফিকুর রহমান (বিরোধী দলীয় নেতা): তিনি বলেন, আইনটি সমাজের জন্য এবং নারীর নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতীত অভিজ্ঞতার কারণে সবাই শঙ্কিত। তিনি আইনটির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ফেইসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে চরিত্রহনন, অপতথ্য, গুজব, মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার বিষয়ে সরকার আলাদা উদ্যোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা ও বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে, যা পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা বিল আকারে আনা হবে।

//ডিবিটেক/ডিপিবি/এমইউআইএম//