৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন ৩২০ ঘণ্টার মেন্টরিং ও প্রশিক্ষণ
ঢাবিতে আন্তবিশ্ববিদ্যালয় আইডিয়া প্রতিযোগিতার মহোৎসব শুরু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইস সেন্টারের ‘ক্রিয়েটিভ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আন্তবিশ্ববিদ্যালয় আইডিয়া কম্পিটিশন’ শুরু হয়েছে। ওএসএল বিভাগের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সেল সামিট’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এর উদ্বোধন করেন। ১ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত সচল থাকবে আবেদনের উইন্ডো। নির্বাচিত দলগুলো তাদের ব্যবসায়িক ধারণাকে টেকসই করতে ৩২০ ঘণ্টার বিশেষ উদ্যোক্তা শিক্ষা ও মেন্টরিং সুবিধা পাবে।
তরুণ প্রজন্মকে চাকরিপ্রত্যাশীর বদলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন, ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিউরশিপ (আইস) সেন্টার কর্তৃক ‘ক্রিয়েটিভ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় দেশের শীর্ষ সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য ‘আন্তবিশ্ববিদ্যালয় আইডিয়া কম্পিটিশনের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
৩০ জুন, মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ (ওএসএল) বিভাগের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিউরশিপ লিডারশিপ (সেল) সামিট’–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওএসএল বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম।
বাংলাদেশ সরকার এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) ‘সরকার টু সরকার’ (জিটুজি) অর্থায়ন ও কৌশলগত সহযোগিতায় এই ‘ক্রিয়েটিভ বাংলাদেশ’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই মেগা প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা এবং যুব উদ্যোক্তা তৈরির একটি শক্তিশালী ও টেকসই ইকোসিস্টেম বা পরিবেশ গড়ে তোলা।
এই প্রতিযোগিতায় নির্দিষ্ট সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সাবেক অ্যালামনাইরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)।
১ জুলাই, বুধবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আবেদন গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই প্রাথমিক নির্বাচিত দলগুলোর আইডিয়া উপস্থাপনা বা ‘পিচিং’ রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, জলবায়ু, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ই-কমার্স এবং সৃজনশীল শিল্পসহ যেকোনো খাতের সময়োপযোগী ও টেকসই উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের আবেদন করার জন্য আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিযোগিতা থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত দলগুলো আইস সেন্টারের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৩২০ ঘণ্টার একটি দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ ‘উদ্যোক্তা শিক্ষা কর্মসূচিতে’ অংশ নেওয়ার অনন্য সুযোগ পাবে। এই বিশেষ ক্যাম্পে বিশ্বমানের নিবিড় প্রশিক্ষণ, ওয়ান-টু-ওয়ান মেন্টরিং এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে তরুণদের কাঁচা ব্যবসায়িক ধারণাকে (Business Idea) একটি পূর্ণাঙ্গ ও লাভজনক স্টার্টআপ বা টেকসই উদ্যোগে রূপ দিতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রথাগত ধারা থেকে বের করে একটি গবেষণাকেন্দ্রিক, উদ্ভাবননির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।"
তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধুনিক নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার ওপর জোর দিয়ে তাদের আগামী দিনের দক্ষ উদ্যোক্তা হওয়ার তাগিদ দেন। একই সাথে ওএসএল বিভাগের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বিভাগটি দেশে কৌশলগত ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে একটি স্বতন্ত্র ও উজ্জ্বল অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
//ডিবিটেক টেক/পিএবি/ইকে//





