সামুদ্রিক গবেষণায় নতুন অধ্যায়, খুলনায় গবেষণা জাহাজ নির্মাণ শুরু
খুলনা শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিকমানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ ‘স্মল রিসার্চ ভেসেল’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বিওআরআইয়ের জন্য নির্মিত এই জাহাজ দেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিকমানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ নির্মাণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। ৬ জুন, মঙ্গলবার খুলনা শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিওআরআই) জন্য নির্মিতব্য ‘স্মল রিসার্চ ভেসেল’ এবং এর মুরিং সহায়তায় একটি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুনের কিল লেয়িং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কিল লেয়িং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। উদ্বোধনের সময় ডিজিটাল কাউন্টডাউন শেষে প্রতীকীভাবে কাঠের হাতুরির আঘাতের মাধ্যমে নির্মাণকাজের সূচনা ঘোষণা করা হয়। এ সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে গবেষণা জাহাজের নির্মাণ পরিকল্পনা প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্রসম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত সুনীল অর্থনীতির কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রভিত্তিক শিল্প ও প্রযুক্তির উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং গবেষণা-উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণার ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গবেষণা জাহাজ নির্মাণের এই উদ্যোগ দেশের সমুদ্রবিজ্ঞান, সুনীল অর্থনীতি এবং টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকমানের একটি নিজস্ব গবেষণা জাহাজের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। বিওআরআই প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য দেশের সামুদ্রিক সম্পদ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন এবং সেই জ্ঞানকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানো। নতুন গবেষণা জাহাজ এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মন্ত্রী জানান, গবেষণা জাহাজটি সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক জীবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সামুদ্রিক পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও গবেষণায় সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি তরুণ গবেষকদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্রের গভীরে থাকা সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও সম্ভাবনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহে অত্যাধুনিক গবেষণা অবকাঠামো প্রয়োজন। গবেষণা জাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মৎস্যসম্পদের অবস্থান, সম্ভাব্য খনিজ সম্পদ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।
দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতার মাধ্যমে গবেষণা জাহাজ নির্মাণের বিষয়টিকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখন শুধু জাহাজ ব্যবহারকারী নয়, জাহাজ নির্মাণেও সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কমডোর মো. মিনারুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল একেএম জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানেঅনুষ্ঠানে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই)-এর বিজ্ঞানী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকৌশলী, নৌ-প্রযুক্তিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে একটি স্মল রিসার্চ ভেসেল এবং একটি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মঙ্গলবারের কিল লেয়িং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণযাত্রা শুরু হলো।
//ডিবিটেক/এমএসএসএম/আইএইচ//





