কানাডায় আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় বিশ্ব ৮৬টি বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে পাইওনিয়ার ক্লাসে প্রথম স্থান

বিশ্ব জয়ী এমআইএসটি ম্যাভিরভ

ক্যানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা ‘মেট আরওভি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর পাইওনিয়ার ক্লাসে ১ম স্থান অর্জন করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) দল ‘এমআইএসটি ম্যাভিরভ’ (MIST MAVIROV)। ১৮টি দেশের ৮৬টি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে এই ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে তারা।

বিশ্ব জয়ী এমআইএসটি ম্যাভিরভ
১ জুলাই, ২০২৬ ০১:০১  
১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৫৭  

আন্তর্জাতিক রোবোটিক্সের মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক গৌরবগাথা রচনা করল ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) একদল তরুণ শিক্ষার্থী। গত ২৩ থেকে ২৭ জুন ক্যানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরের সেন্ট জনস-এ অনুষ্ঠিত ‘মেট আরওভি কম্পিটিশন ২০২৬ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’ (MATE ROV World Championship 2026)-এর ‘পাইওনিয়ার ক্লাসে’ ১ম স্থান অর্জন করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাদের আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স দল ‘এমআইএসটি ম্যাভিরভ’।

‘এমআইএসটি ম্যাভিরভ’ মূলত রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল (ROV), স্বায়ত্তশাসিত আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (AUV), বায়োনিক্স এবং উন্নত মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কাজ করা একটি গবেষণা-ভিত্তিক দল।

এমআইএসটি-র শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে এবং একজন একাডেমিক সুপারভাইজরের নির্দেশনায় গড়ে ওঠা এই সংগঠনে বর্তমানে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং পিআর অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের ২৬ জন সদস্য কাজ করছেন।

এর আগে ‘লেভিয়াথান ১.০’, ‘লেভিয়াথান ২.০’ এবং ৫০ কিমি রেঞ্জের স্বায়ত্তশাসিত ড্রোন ‘ক্রিপার ১.০’ তৈরির ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার আলোকেই তারা এই বিশ্ব আসরের টিকিট পেয়েছিল।

চ্যাম্পিয়ন রোবট ‘ম্যাভিরিও’ (MAVIRIO)- বিশ্বজয়ী এই দলটির ফ্ল্যাগশিপ সাবসি ড্রোনের নাম ‘ম্যাভিরভ’। এটি গভীর সমুদ্র এবং বরফে ঢাকা বৈরী পরিবেশে কাজ করার উপযোগী করে তৈরি।

সামুদ্রিক কচ্ছপের হাইড্রোডাইনামিক প্রোফাইল বা শারীরিক গঠন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এর বায়ো-ডিজাইন করা হয়েছে, যা পানির নিচে তীব্র স্রোতের বিপরীতেও কম শব্দ তৈরি করে চলতে পারে। ৬-ডিওএফ প্রপালশন সিস্টেমযুক্ত এই রোবটে রয়েছে ২-ডিওএফ রোবোটিক আর্ম বা মেকানিক্যাল হাত, অ্যালুমিনিয়াম চেসিস, বরফ-প্রতিরোধী স্মার্ট সেন্সর অ্যারে, হাই-ইনটেনসিটি লাইট এবং নিখুঁত ক্যামেরা।

জাতিসংঘের ‘ওশেন ডিকেড চ্যালেঞ্জস’ থিমের ওপর ভিত্তি করে এবারের প্রতিযোগিতায় বরফে ঢাকা ফ্লুম ট্যাংক এবং উন্মুক্ত লবণাক্ত পানির তীব্র স্রোতের মধ্যে কোরাল গার্ডেনের স্যাম্পল সংগ্রহ, সাবসি অবজারভেটরি সার্ভিসিং এবং অফশোর উইন্ড প্ল্যাটফর্মের সংযোগ মেরামতের মতো বাস্তবসম্মত ও জটিল সব মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে ম্যাভিরভ। প্রোডাক্ট ডেমোনেস্ট্রেশন, ইঞ্জিনিয়ারিং কমিউনিকেশন (টেকনিক্যাল রিপোর্ট ও প্রেজেন্টেশন) এবং সেফটি—এই তিন পিলারের মূল্যায়নে বিশ্বসেরা নির্বাচিত হয় বাংলাদেশের এই দল।

গত ২৭ জুন এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই বৈশ্বিক আসরে বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৬টি শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। বিশ্বমঞ্চে ফলিত প্রকৌশল, হার্ডওয়্যার উদ্ভাবন এবং আন্ডারওয়াটার ড্রোন (পানির নিচের ড্রোন) প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতার এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এই অর্জন।

//ডিবিটেক/আইএটি/ আইএইচ//