৩০ এপ্রিলের পর অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান
জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সারাদেশে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজকে রক্ষায় এ ধরনের অভিযান চালানোর কোনো বিকল্প নেই।
২৭ এপ্রিল, সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জয়নুল আবদিন ফারুকের ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদ অধিবেশনে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধের বিষয়ে নোটিশ উত্থাপন করা হয়। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত) অনুযায়ী সিসা ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে তফসিলভুক্ত। বর্তমান সরকার মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে রাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কিছু মালিক রিট মামলা করলেও আপিল বিভাগের নির্দেশনায় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল হয়েছে। ফলে অনুমোদনবিহীন সিসা লাউঞ্জ বন্ধে আইনি বাধা নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ সিসা বার থেকে সিসা ও হুক্কা জব্দ করা হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন লাউঞ্জে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম চালাতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের আড়ালে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ পরিচালনার বিষয়টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নজরেও এসেছে। এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য, নগর শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ স্থাপন করে কেউ যাতে ব্যবসা করতে না পারে, সে বিষয়ে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ভবন মালিকদের সচেতন করা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ব্যবসায় সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিবিটেক/এসএ/এমইউইএম







