বৈদ্যুতিক গাড়ির মাইলেজ বাড়ানোর ৫টি সহজ উপায়
আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর প্রযুক্তি দিন দিন উন্নত হচ্ছে। এখনকার প্রায় প্রতিটি গাড়িই একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে অন্তত ৩০০ মাইল বা প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার পথ অনায়াসে পাড়ি দিতে পারে। কিছু কিছু দামি গাড়ি তো ৫০০ মাইল পর্যন্তও ছুটতে পারে। তবে দূরপাল্লার যাত্রায় কিংবা পথিমধ্যে চার্জিং স্টেশনের ঘাটতি থাকলে গাড়ির ব্যাটারি থেকে বাড়তি কিছুটা মাইলেজ বা কার্যক্ষমতা বের করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সাধারণ কিছু কৌশল অবলম্বন করলেই বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জ দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব। নিচে এমন ৫টি সহজ উপায় তুলে ধরা হলো:
১. গতি কমানোর শক্তি কাজে লাগানো (রিজেনারেটিভ ব্রেকিং):
সাধারণ জ্বালানি চালিত গাড়িগুলো ব্রেক করার সময় গতিশক্তি নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো ব্রেকের সময় তৈরি হওয়া এই শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে ব্যাটারিতে জমা করতে পারে। যখনই গাড়ির গতি কমানো হয়, তখন এর মোটরটি একটি জেনারেটর বা বিদ্যুৎ উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের মতে, এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে শহরের সাধারণ রাস্তায় গাড়ির প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত শক্তি সাশ্রয় করা সম্ভব।
২. শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (এসি) সীমিত ব্যবহার:
সাধারণ গাড়ির মতো বৈদ্যুতিক গাড়ির এসি ইঞ্জিনের শক্তিতে চলে না, বরং সরাসরি মূল ব্যাটারির ওপর চাপ ফেলে। তাই এসি যত বেশি চলবে, গাড়ির মাইলেজ তত কমবে। এর একটি চমৎকার সমাধান হলো, গাড়িটি যখন বাড়িতে চার্জে লাগানো থাকবে, তখনই চার্জের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ভেতরের পরিবেশ ঠান্ডা করে নেওয়া। এছাড়া রোদে গাড়ি পার্ক করার সময় সানশেড ব্যবহার করা এবং এসির বদলে আসন শীতল রাখার প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও ব্যাটারির ওপর চাপ কম পড়ে।
৩. অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়া এড়িয়ে চলা:
অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়া বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র শীতে বা বরফ জমা আবহাওয়ায় গাড়ির মাইলেজ ২৫ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তাছাড়া গাড়ি গরম রাখার জন্য হিটার চালালেও প্রচুর ব্যাটারি খরচ হয়। তাই অতিরিক্ত ঠান্ডায় গাড়ি চালানো পরিহার করা ভালো।
৪. গাড়ির অতিরিক্ত ওজন ও অনুষঙ্গ বাদ দেওয়া:
গাড়ির নকশা বাতাসকে কতটা সহজে কেটে এগিয়ে যেতে পারে, তার ওপর মাইলেজ অনেকখানি নির্ভর করে। একে বলা হয় বায়ুগতিবিদ্যা বা অ্যারোডাইনামিকস। গাড়ির ছাদে যদি ক্যারিয়ার, সাইকেল রাখার স্ট্যান্ড বা বাড়তি কোনো অনুষঙ্গ যুক্ত থাকে, তবে তা বাতাসে বাধা তৈরি করে এবং ব্যাটারির খরচ বাড়িয়ে দেয়। একই সাথে গাড়ির পেছনের বক্সে বা ট্রাংকে অপ্রয়োজনীয় ভারী জিনিসপত্র রাখা বর্জন করা উচিত, কারণ বাড়তি ওজন গাড়ির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৫. গতিবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা:
বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর দ্রুত গতি বাড়ানোর ক্ষমতা দারুণ হলেও, হুটহাট গতি বাড়ানো বা সবসময় সর্বোচ্চ গতিতে গাড়ি চালানো ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। প্রতিবার ট্রাফিক সিগন্যালে বা মোড়ে আচমকা গতি বাড়ালে প্রচুর চার্জ অপচয় হয়। এর চেয়ে বরং গাড়ির গতি স্থির রাখা বা 'ইকো মোড' (সাশ্রয়ী মোড) চালু রাখা ভালো। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ঘণ্টায় ৫৫ মাইল গতির তুলনায় ৭৫ মাইল গতিতে গাড়ি চালালে বাতাসের বাধার কারণে গাড়ির মাইলেজ প্রায় ১০০ মাইল পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
ডিবিটেক/বিএমটি





