শিক্ষা বাজেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বিশেষ বরাদ্দের দাবি শিক্ষার্থীদের
দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে মাধ্যমিক স্তর থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোডিং, ডেটা সায়েন্স এবং স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষার প্রসারে ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছে শিক্ষা অধিকার সংসদ।
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ৫ জুন, শুক্রবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিকায়নের সুপারিশসহ ১২ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক জরিপের ফল প্রকাশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক এবং শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন জরিপের ফলাফল তুলে ধরে জানান, দেশের ১৭টি পাবলিক, ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া দেশের ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ তরুণ শিক্ষার্থী শিক্ষা খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বা তারও বেশি বরাদ্দ প্রত্যাশা করেছেন। তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী দুর্নীতি ও তহবিলের অপচয় এবং ৫০ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও ল্যাবরেটরি সংস্কারে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রয়োজন। জরিপে অর্ধেকেরও বেশি উত্তরদাতা প্রাথমিক শিক্ষাকে মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে এই স্তরে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেন। অন্যদিকে এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী কোনো নির্দিষ্ট স্তরে বৈষম্য না করে শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে সমানভাবে বাজেট বরাদ্দের পক্ষে মত দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে সরকারের কাছে করা সুপারিশে প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—জিডিপির ৫-৬ শতাংশ শিক্ষা বরাদ্দ আইনিভাবে নিশ্চিত করা, ‘জাতীয় শিক্ষক নিয়োগ কমিশন (এনটিসি)’ গঠন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন এবং বাধ্যতামূলক পেশাগত প্রশিক্ষণ তহবিল গঠন করা।
এছাড়া কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন, চরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকার শিক্ষকদের জন্য ‘বিশেষ অঞ্চল শিক্ষা ভাতা’ চালু, শিক্ষা বাজেট তদারকিতে ‘ডিজিটাল প্রকিউরমেন্ট ও অডিট ব্যবস্থা’ এবং একটি ‘জাতীয় শিক্ষা পরিকল্পনা কমিশন’ গঠনের দাবি জানানো হয়।
//ডিবিটেক/ এসআই/ ইকে//





