আসামি ৭০–৮০ অজ্ঞাত ব্যক্তি

কুরিয়ার ওয়্যারহাউজে হামলা, সার্ভার ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম লুট

  • হাজারীবাগে এ জে আর কুরিয়ারের ওয়্যারহাউজে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে
  • সিসকো কোর, রাউটার, এনভিআর, হার্ডডিস্কসহ প্রায় ৩১ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ
  • ‘ক্যাপ্টেন ইমনের লোক’ পরিচয়ে হুমকির অভিযোগ; আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে

কুরিয়ার ওয়্যারহাউজে হামলা, সার্ভার ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম লুট
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১১  

রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের কেন্দ্রীয় বাছাই ও বিতরণকেন্দ্রে (সেন্ট্রাল সর্টিং সেন্টার) হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ব্যবস্থা, সার্ভার ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামসহ প্রায় ৩১ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

২১ অক্টোবর, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাজারীবাগ থানাধীন মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ রোডসংলগ্ন কুরিয়ার সার্ভিসটির ওয়্যারহাউজে হামলা হয়। মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরা ৭০ থেকে ৮০ জন এতে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন ওয়্যারহাউজের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালান। অন্যরা বাইরে অবস্থান নেন।

আগেই এসে অপারেশন ম্যানেজারের খোঁজ

এজাহারে বলা হয়, গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হাজারীবাগের সেন্ট্রাল সর্টিং সেন্টারের ফটকে আসেন। তাঁরা নিরাপত্তাকর্মী মো. হারুন আর রশিদের কাছে অপারেশন ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনের খোঁজ করেন।

নিজাম উদ্দিন তখন দায়িত্বে নেই বলে জানানো হলে তাঁরা অনুমতি ছাড়াই ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মী বাধা দিলে তাঁকে হুমকি দিয়ে তাঁরা চলে যান।

এরপর ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে ৩৫ থেকে ৪০টি মোটরসাইকেলে করে ৭০ থেকে ৮০ জন মুখোশ ও হেলমেট পরা ব্যক্তি ওয়্যারহাউজের পশ্চিম ফটকে আসেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন ভেতরে প্রবেশ করে সিসিটিভি ক্যামেরা ও সংযোগের তার ছিঁড়ে ফেলেন। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাকি ৩০ থেকে ৪০ জন বাইরে অবস্থান করেন।

সার্ভার ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম লুট

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে ৮ থেকে ৯ জন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। ভেতরে প্রবেশ করেই তাঁরা আসবাবপত্র ও গ্রাহকদের মালামাল ভাঙচুর শুরু করেন। আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছোটাছুটি করতে থাকেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের একজন নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন ইমন’-এর লোক পরিচয় দিয়ে জায়গা ও ভাড়ার দাবি করেন। এরপর তাঁরা সিসিটিভি ক্যামেরার সার্ভার রুমের তালা ও দরজা ভেঙে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।

মামলায় লুট হওয়া সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে একটি সিসকো কোর, একটি রাউটার, বিভিন্ন চ্যানেলের সাতটি নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডার (এনভিআর), ১০ টেরাবাইটের ৩৮টি হার্ডডিস্ক, একটি সার্ভার র‍্যাক, দুই মেগাপিক্সেল ক্ষমতার ৪০টি ক্যামেরা, আটটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট (সিপিইউ), আটটি মনিটর এবং একটি ল্যাপটপ। এসব সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফোনে হুমকির অভিযোগ

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে সাইফুল নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন ইমনের লোক’ পরিচয় দিয়ে ৯৬৬৫৭৭৪৯৫৪৬৮ নম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফোন করে হুমকি দিচ্ছেন।

এজাহারে তাঁদের বিরুদ্ধে আগেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনার কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার রাতে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

তিনি জানান, মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

//ডিবিটেক/বিএনএনআর/এসএমই/এমভিএনও//