লন্ডন ডেটা সেন্টারে কারিগরি সংকট

ইউরোপে গুগল ক্লাউড বিভ্রাটে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যাহত

  • লন্ডন ডেটা সেন্টারে পাওয়ার বিভ্রাটের কারণে গুগল ক্লাউড সেবায় ব্যাঘাত ও বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্ক ত্রুটি
    ইউরোপে গুগল ক্লাউড বিভ্রাটে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যাহত
    ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৭  

    যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বড় অংশে গুগল ক্লাউডের সেবায় বড় ধরনের ক্লাউড ও নেটওয়ার্ক বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় অনলাইন ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডেলিভারি সেবা ব্যাহত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে গুগল ক্লাউড সেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইন্টারনেট সংগঠন আইএসপিএবি।

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) লন্ডনে অবস্থিত গুগল ক্লাউডের প্রধান অবকাঠামোতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। গুগল ক্লাউডের সার্ভিস হেলথ পেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স জানায়, লন্ডনভিত্তিক ‘ইউরোপ-ওয়েস্ট২-বি’ (europe-west2-b) ডেটা সেন্টার জোনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ‘পাওয়ার ইভেন্ট’ বা বিদ্যুৎসংক্রান্ত ট্রিপিংয়ের কারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ক্লাউড প্রসেস অচল হয়ে পড়ে। ঘটনাটি সনাক্তকরণের পর গুগলের প্রকৌশলীরা দ্রুত রিকভারি কার্যক্রম চালু করেছে এবং বিভ্রাটের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

    এই অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি বিভ্রাটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় ডিজিটাল ব্যাংক ‘রেভল্যুট’ (Revolut)-এর ওপর। ব্যাংকটির অফিসিয়াল স্ট্যাটাস পেজের তথ্য অনুযায়ী, ডেটা সংযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় ডেবিট কার্ড পেমেন্ট, অনলাইন লেনদেন, মোবাইল অ্যাপ কানেক্টিভিটি এবং এটিএম বুথ থেকে অর্থ উত্তোলনের সেবা পুরোপুরি ও আংশিকভাবে থমকে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (X) দেওয়া এক বিবৃতিতে রেভল্যুট জানিয়েছে, “আমরা একাধিক পরিষেবায় সাময়িক বিভ্রাটের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে আমরা গ্রাহকদের নিশ্চিত করছি যে তাঁদের অর্থ ও ব্যক্তিগত ডেটা সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।”

    রেভল্যুট ছাড়াও যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি (HSBC), লয়েডস ব্যাংক (Lloyds Bank), ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড, ইমা অ্যাপ, যুক্তরাজ্যের জাতীয় আদালতের ভিডিও কনফারেন্সিং নেটওয়ার্ক এবং পার্সেল ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিপিডি (DPD) ও রয়্যাল মেইলের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। অন্যদিকে জার্মানির আইএনজি ব্যাংক জানিয়েছে, সার্ভার সংযোগ না পাওয়ায় অনলাইন ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপে প্রবেশের চেষ্টা করে গ্রাহকরা জটিলতায় পড়েন।

    তবে ইউরোপজুড়ে এই ডিজিটাল সংকট তৈরি হলেও বাংলাদেশে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা সংস্থাগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি (ISPAB)-এর মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁইয়া জানান, “বাংলাদেশের ইন্টারনেট ইকোসিস্টেমে গুগল ক্লাউডসহ অন্যান্য ক্লাউড ট্রাফিক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশীয় কোনো ডিজিটাল সার্ভিস ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।”

    যুক্তরাজ্যের জাতীয় দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো মূলত কয়েকটি বৃহৎ টেক কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত। বর্তমানে বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS), ২০ শতাংশ মাইক্রোসফট অ্যাজিউর (Microsoft Azure) এবং প্রায় ১১ শতাংশ গুগল ক্লাউডের (Google Cloud) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একাধিক প্রাইভেট ডেটা সেন্টারের বদলে কেন্দ্রীভূত এসব বিগ-টেক সার্ভারের ওপর অতি-নির্ভরশীলতার কারণেই একটি ডেটা সেন্টারের সাধারণ ট্রিপিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পুরো বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক মুহূর্তে থমকে যায়।

    //ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমপি/এমভিএনও//