শাহজালাল বিমানবন্দরে লাইভ ট্র্যাকিংয়ে স্বস্তি

ডিজিটাল মনিটরিংয়ে ১৫ মিনিটে লাগেজ

  • শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বচ্ছতা আননে ৩২টি সিসিটিভি ও ১৮টি মনিটর স্থাপন
  • প্লেন নামার ১৫-২০ মিনিটে লাগেজ প্রাপ্তি ও চুরির ঝুঁকি নিরসন
  • বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশনার পর বেবিচকের দ্রুততম প্রযুক্তিগত রূপান্তর

ডিজিটাল মনিটরিংয়ে ১৫ মিনিটে লাগেজ
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১৯  

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লাগেজ অব্যবস্থাপনা, ট্রলি সংকট ও বিলম্বের ইতি ঘটেছে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে হাই-টেক ‘লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং সিস্টেম’।

সিভিল এভিয়েশন ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে প্লেন অবতরণের পর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই যাত্রীরা তাদের লাগেজ হাতে পাচ্ছেন। যা বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেশনে এক অভাবনীয় স্বচ্ছতা ও অভূতপূর্ব স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এ সেবা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ১৯ অক্টোবর, সোমবার  সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলে যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন, তা ধীরে ধীরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় দুই মাস আগে যাত্রীদের জন্য লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এখন সেই উদ্যোগ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে।

সূত্রমতে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এই বিশেষ ডিজিটাল উদ্যোগে আর্কিটেকচার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক নজরদারি নেটওয়ার্ক। বিমানবন্দরে ৮টি লাগেজ বেল্ট এলাকায় মোট ১৮টি ৬৫ ইঞ্চি ফোর-কে (4K) ডিসপ্লে মনিটর স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে প্রদর্শনের জন্য প্রতি বেল্টে ৪টি করে মোট ৩২টি হাই-ডেফিনিশন (HD) সিসিটিভি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। উড্ডয়ন শেষে প্লেন থেকে লাগেজ ট্রলিতে তোলা, বেল্টের প্রবেশমুখে আনলোডিং এবং সরাসরি ট্র্যাকার বেল্টে তোলার পুরো প্রক্রিয়াটি এই এইচডি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি ফোর-কে ডিসপ্লেতে লাইভ সম্প্রচার করা হচ্ছে।

ফলে পূর্বে যেখানে উড়োজাহাজ থেকে নামার পর লাগেজ পেতে ১ থেকে ২ ঘণ্টার দীর্ঘ লাইন ও অনাকাঙ্ক্ষিত অপেক্ষা করতে হতো, বর্তমানে লাইভ সিস্টেমে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে। লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে সরাসরি মনিটরিং সুবিধা থাকায় বেল্টের পর্দার আড়ালে লাগেজ কাটিং, চুরি বা অনিয়মের সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। এর ফলে পূর্বের চরম উদ্বেগ ও লাগেজ হারানোর হাহাকারের বিপরীতে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী প্রবাসীদের মাঝে স্বস্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ফিরে এসেছে।

সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকট নিয়ে সৃষ্টি হওয়া চরম হট্টগোল এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেফতার হন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেয়া বিএনপি’র সাবেক নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান। ওই ঘটনার পরই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিসকে দ্রুততম সময়ে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই আধুনিক ডিজিটাল সমাধান ও অটোমেশন দ্রুততম সময়ে কার্যকর করার নির্দেশ প্রদান করে। 

বিমানবন্দর ত্যাগকারী একাধিক প্রবাসী যাত্রী জানান, অতীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। কিন্তু এখন সিসিটিভি ফুটেজে চোখের সামনে সব কার্যক্রম দেখা যাওয়ায় ট্র্যাকিং সহজ হয়েছে এবং দ্রুত বিমানবন্দর ত্যাগ করা সম্ভব হচ্ছে। দীর্ঘ ৭ বছর পর দেশে ফেরা প্রবাসী আব্দুল হামিদ বললেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই সেবা আমি দেখেছি। দেশেও এই সেবা চালু করায় স্বস্তি বোধ করছি।

এভিয়েশন ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যানুয়াল সিস্টেম থেকে অটোমেটেড এবং লাইভ ডিজিটাল মনিটরিংয়ে রূপান্তর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। বেবিচক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের কাজের গতি বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা শতভাগ নিশ্চিত করতেই এই টেকনোলজি প্রসেস অব্যাহত থাকবে।

//ডিবিটেক/জিএআই/এসএমপি/ডিপিও//