বাংলাদেশে তৈরি হবে টিভিএস মোটরসাইকেল
হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে টিবিএস ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বাংলাদেশে সংযোজন করতে ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে প্রাণ-আরএফএর গ্রুপ। সেখানে কারখানা গড়ে রাইডো ইলেকট্রিক স্কুটার ও টিভিএস মোটরসাইকেল তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে সেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আর এর মাধ্যমে মোটরসাইকেল ও ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজারে প্রবেশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ-আরএফএল।
এর আগে দেশে টিভিএস মোটরসাইকেল বিপণনের দায়িত্বে ছিল র্যাংগস গ্রুপ। তবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
সেই চুক্তির বিষয় তুলে ধরে ১০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার রাজধানীর বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে এই পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন প্রাণগ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রথীন্দ্র নাথ পাল (আরএন পাল)। তিনি বলেন, “বর্তমানে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল তরুণদের কাছে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি একটি লাইফস্টাইল পণ্যে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত বাইসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা এখন মোটরসাইকেল এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজারে প্রবেশ করেছি উৎপাদন খরচ যতটা সম্ভব কমিয়ে এনে আমরা টিভিএস মোটরসাইকেল বাজারজাত করব। ভবিষ্যতে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ পুরোটা দেশেই উৎপাদন করার চেষ্টা করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।”
তিনি আরও জানান, ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের মতো বাংলাদেশের বাজারও ইলেকট্রিক স্কুটারের জন্য সম্ভাবনাময়। ২০২৭ সালের মধ্যে ৫০ হাজার টাকায় উন্নতমানের রাইডো ব্র্যান্ডের স্কুটার গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রুপটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে প্রাণ-আরএফএলের মাধ্যমে টিভিএস মোটরসাইকেল বাজারে আসতে পারে। হবিগঞ্জের কারখানায় ইতিমধ্যে সেখানে ইলেকট্রিক স্কুটার উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং প্রথম ধাপে মাসে ৫০০ ইউনিট তৈরি হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হলে প্রতি মাসে তিন হাজার ইউনিট স্কুটার তৈরি করা হবে। টিভিএস মোটরসাইকেলও দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে এখানে আসছে, যার জন্য ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরএফএল গ্রুপের বাইক ব্যবসার প্রধান কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, “প্রথম বছর আমরা স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চাই। ডিলার ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং উন্নত গ্রাহক সেবা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ধাপে ধাপে আমরা নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।”
প্রাণ-আরএফএল ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার সম্প্রসারণের জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপনায় বিনিয়োগ করছে। জাপানি প্রযুক্তি নির্ভর স্টার্টআপ গ্লাফিট বাংলাদেশ লিমিটেডের সহায়তায় দ্রুত একটি চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। এ বিষয় আরএন পাল জানিয়েছেন, দেশেই মোটরসাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ— যেমন ড্রাইভ চেইন, সিট, হুইল, ব্যাটারি উৎপাদন করা সম্ভব। এতে কম খরচে ভালো মানের মোটরসাইকেল সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদী সেবা নিশ্চিত করা যাবে।
প্রাণ-আরএফএল তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক স্কুটার ‘রাইডো’ সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায়। বর্তমানে স্কুটারটির দাম ৫৫ হাজার টাকা হলেও প্রতিষ্ঠানটি তা ৪৫ হাজার টাকায় নামানোর পরিকল্পনা করছে।
প্রাণ-আরএফএল টিভিএস মোটরসাইকেলের ডিলার পয়েন্টগুলো আরও কার্যকর করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে আরএন পাল বলেন, ভালো ব্যবসা করা ডিলারদের সহায়তা দেওয়া হবে, আর ব্যর্থ ডিলারদের বদলানো হতে পারে। নতুন ডিলার নিয়োগেরও সুযোগ থাকবে।
সার্ভিস সেন্টার থেকে টিভিএসের পুরোনো গ্রাহকরাও সেবা পাবেন। যারা এখনও ওয়ারেন্টি বা ফ্রি সার্ভিসের আওতায় আছেন, তারা নতুন আঙ্গিকে পূর্ণ সেবা পাবেন। প্রাণ-আরএফএল টিভিএসকে আগের মতো সেরা ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
প্রাণ-আরএফএল টিভিএস মোটরসাইকেলের ডিলার পয়েন্টগুলো আরও কার্যকর করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে আরএন পাল বলেন, ভালো ব্যবসা করা ডিলারদের সহায়তা দেওয়া হবে, আর ব্যর্থ ডিলারদের বদলানো হতে পারে। নতুন ডিলার নিয়োগেরও সুযোগ থাকবে।
সার্ভিস সেন্টার থেকে টিভিএসের পুরোনো গ্রাহকরাও সেবা পাবেন। যারা এখনও ওয়ারেন্টি বা ফ্রি সার্ভিসের আওতায় আছেন, তারা নতুন আঙ্গিকে পূর্ণ সেবা পাবেন। প্রাণ-আরএফএল টিভিএসকে আগের মতো সেরা ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
ডিবিটেক/বিডিএনডি/এসএমই



