পুলিশ সাংবাদিক পেটানোর কর্মসূচিতে নেমেছিল 

জাদুঘরের সামনে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

জাদুঘরের সামনে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের প্রতিবাদ
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫৫  

সাংবাদিকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ঢাকায় কর্মরত মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরা। ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকা কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগের প্রতিবাদ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রতিবাদ সমাবেশে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামানসহ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, এটি পরিকল্পিত হামলা ছিল। পুলিশের পোশাকের পরিবর্তন হলে তাদের আচরণ পরিবর্তন হয়নি। যেসব পুলিশ হামলা চালিয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। পুলিশ সদস্যের বিচার চাই।

তারা আরও বলেন, ডিসি মাসুদের উপস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এই হামলায় ডিসি মাসুদের সম্মতি ছিল। মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের খোঁজে খোঁজে হামলা চালানো হয়েছে। সাংবাদিকদের কেন মারা হবে? আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাই। যতক্ষণ বিচার না হবে ততক্ষণ আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সামনে যখন নির্বিচারে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হয় এবং সাংবাদিকরা সেই সংবাদ সংগ্রহ ও সম্প্রচার করেন, তখন পুলিশ তাদের টার্গেট করে। গতকাল যা ঘটেছে, তা আগে কখনও হয়েছে কি-না আমাদের জানা নেই। মনে হয়েছে, পুলিশ গতকাল সাংবাদিকদের পেটানোর বিশেষ কর্মসূচিতে নেমেছিল।

এর আগে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর বিনা উসকানিতে পুলিশ হামলা চালায়। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় স্থানীয় এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করা হয় এবং তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। 

পুলিশের এই অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন তল্লাশি ও ভিডিও ডিলিট করার আইনগত এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করায় পুলিশ সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে আরটিএনএনের চিফ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবু বক্কার সিদ্দিকসহ ১৫ থেকে ২০ জন সাংবাদিক আহত হন।  অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ সদস্য জাহিদের নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়। এটি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল। 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক আহত হন। ওইদিন বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ব্যারিকেড ভেঙে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করে।এমনকি নারী বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে আরো বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের সময় অন্তত একজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে পুলিশ সদস্যরা হামলা করেন। তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি নিজেও মাটিতে পড়ে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই সাংবাদিকের আঙুলে ফ্র্যাকচারসহ পিঠ ও পাঁজরে গুরুতর আঘাতের কথাও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও পুলিশকে একজনের মোবাইলে লক খুলতে ধমক দেয়ার ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। 

ডিবিটেক/এসআই/এমইউএম