প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ শুরু ২৬ নভেম্বর, ৫ ক্যাটাগরিতে পদক পাবেন ১৫ জন

প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ শুরু ২৬ নভেম্বর, ৫ ক্যাটাগরিতে পদক পাবেন ১৫ জন
২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১৫:০২  

প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ২৬ নভেম্বর, বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ।  ‘দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি’ প্রতিপাদ্যে এবারের সপ্তাহে  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অবদানের জন্য প্রথমবারের মতো পাঁচ ক্যাটাগরিতে  ১৫ জনকে দেয়া হবে সম্মাননা। 

গবাদিপশুর খামারি (গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য); পোল্ট্রি খামার (হাঁস, মুরগি, কবুতর, টার্কি, কোয়েল ও অন্যান্য); প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য উৎপাদন (মাংস, দুধ ও ডিম) প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি; প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠান/অ্যাসোসিয়েশন/ সমবায় সমিতি/গণমাধ্যম/এনজিও/প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত সমাজ ভিত্তিক সংগঠনের অবদান/সমগ্র কর্মজীবনের অবদান এবং প্রান্তিক চাষী/নারী ও অনগ্রসর খামারিদের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেয়া হবে এই সম্মাননা।

জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ পদকে ভূষিত করা হবে। 

২৪ নভেম্বর, সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।  এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান-সহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান,  প্রথমবারের মতো ২৬ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ একযোগে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ঢাকায় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অর্থাৎ সমগ্র দেশব্যাপী উদযাপিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে প্রাণিসম্পদ পদক প্রদান, বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম, র‍্যালি, আলোচনা, সেমিনার, কর্মশালা, প্রদর্শনী ইত্যাদি।

তিনি বলেন, এই সপ্তাহ পালনের মূল উদ্দেশ্য প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, জিডিপতে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, কৃষিজ জিডিপিতে ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ  এবং অর্থমূল্যে প্রাণিসম্পদ জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা।”

উপদেষ্টা বলেন, “পোল্ট্রি শিল্প বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের খাত—যেখানে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ রয়েছে। দেশে নিবন্ধিত ৮৫,২২৭টি বাণিজ্যিক এবং প্রায় ১,৯১,০০০টি প্রান্তিক পোল্ট্রি খামার রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৬৮ লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে—যা নিঃসন্দেহে এক বড় সাফল্য।”

তিনি জানান, রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) প্রতিরোধে ১৭ লক্ষ ডোজ টিকা, ক্ষুরা রোগ (এফএমডি) নির্মূলে নির্দিষ্ট অঞ্চলে জোনিং কার্যক্রম এবং ছাগলের পিপিআর রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৬ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালা এবং প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী ২৬ নভেম্বর (বুধবার) সকাল ৯টায় উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনা উপদেষ্ট ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের জন্যে ভিডিওতে শুভেচ্ছা বার্তা দেবেন। প্রধান অতিথি প্রাণিসম্পদ মেলাও উদ্বোধন করবেন। মেলা চলবে তিনদিন।

জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে ২৭ ও ২৮ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী সেমিনার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রাণিসম্পদ মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে উদযাপিত প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে তিন দিনব্যাপী প্রাণিসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান, যন্ত্রপাতি, খাদ্য প্রদর্শন। বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকবে, যেমন- সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জাতের প্রাণিসম্পদ, লাইভএনিম্যাল ফার্মস, লাইভ এনিম্যাল ও ফডার এন্টারপ্রাইজ, পেট ও বার্ডস কেয়ার শপস, লাইভস্টক ইকুইপমেন্টস ও জেনেটিক্স কোম্পানি, ফুড প্রসেসিং ও ভ্যালু অ্যাডেড কোম্পানি, অ্যানিম্যাল হেলথ কোম্পানি, লাইভস্টক ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি, অ্যাসোসিয়েশন ইনফো বুথ, ওয়াচ টাওয়ার, নামাজের স্থান, সেমিনার হল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা বুথ ইত্যাদি।

প্রধান কর্মসূচি ও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, জাতীয় প্রাণিসম্পদ পদক প্রদান, প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, নিরাপদ খাদ্য, পশুপালন, দুগ্ধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে সেমিনার ও আলোচনা, ফুড ফেস্টিভ্যাল ও প্রদর্শনী, পুরষ্কার বিতরণ ও কেন্দ্রীয় সমাপনী অনুষ্ঠান এবং সব বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে র‍্যালি, আলোচনা সভা, প্রদর্শনী, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির জন্য ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প, বিনামূল্যে কৃমিনাশক বিতরণ, কৃত্রিম প্রজনন সেবা ও ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, চিত্রাঙ্কণ ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রাণিসম্পদ টেকসই উন্নয়নে তরুণ/নারী উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতবিনিময় সভা, সাংস্কৃতিক ও সমাপনী অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।
ডিবিটেক/আরবি/ইক