জাপানে চিরতরে বিদায় নিচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ফ্লিপ ফোন

জাপানে চিরতরে বিদায় নিচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ফ্লিপ ফোন
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৮  

বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় জাপানে ঐতিহ্যবাহী ফ্লিপ ফোন বা ক্লাশেল হ্যান্ডসেটের প্রচলন অনেক বেশি দিন টিকে ছিল। দ্বীপরাষ্ট্রটির বিশেষ প্রযুক্তি সংস্কৃতির কারণে এগুলো 'গারা-কেই' নামে পরিচিত ছিল। 

আধুনিক বড় স্ক্রিনের স্মার্টফোনের যুগেও ফিজিক্যাল বা বোতামযুক্ত কিবোর্ড, অত্যন্ত টেকসই গঠন, ইনফ্রারেড ট্রান্সমিটার এবং টেলিভিশন সম্প্রচার গ্রহণের মতো অভিনব সুবিধার কারণে এই ফোনগুলো জাপানিদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। 

এমনকি ট্রেন ও মুদি দোকানে লেনদেনের জন্য এসব ফোনে বিশেষ চিপ যুক্ত করা হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে করেছিল আরও সহজ।

থ্রিজি সেবা বন্ধ ও প্রযুক্তির পালাবদল
তবে সময়ের পরিবর্তনে ক্রেতাদের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাপানে মোবাইল ব্যবহারকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশই এখন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল। 

দেশটির শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর এনটিটি ডোকোমোসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাকি থাকা থ্রিজি বা তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ইন্টারনেট সেবা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিবর্তনের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। 

থ্রিজি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল শত শত মডেলের ফিচার ফোন এবং গাড়ি নেভিগেশন সিস্টেমগুলো একযোগে অকার্যকর হয়ে পড়ায় ব্যবহারকারীরা বাধ্য হয়ে আধুনিক স্মার্টফোনের দিকে ঝুঁকছেন।

বয়স্ক জনসংখ্যা ও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি জাপান
জাপানের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা এবং প্রবীণদের প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তোলার সরকারি উদ্যোগও ফিচার ফোন বিদায় নেওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। 

বয়স্ক নাগরিকদের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও ক্লাসের ব্যবস্থা করছে। 

একসময়ে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম থাকা এই ফ্লিপ ফোনগুলোর বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে জাপানি প্রযুক্তির ইতিহাসের একটি দীর্ঘ ও জনপ্রিয় অধ্যায়ের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটল।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।    সূত্র: এনগ্যাজেট