শাকসু নির্বাচনের তারিখ প্রত্যাখান শিক্ষার্থীদের
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আগামী ১৭ ডিসেম্বর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। গত ১৪ নভেম্বর শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে এ ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী। তবে নির্বাচনের তারিখ প্রত্যাখ্যান করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
১৫ নভেম্বর, শনিবার আন্দোলনকারীদের পক্ষে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হাসান বলেন, ‘শাকসুর ঘোষিত তারিখ আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। ১২ ডিসেম্বরের আগে যে কোনো এক দিন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে হবে। আমরা প্রশাসনকে শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। এর মধ্যেই নতুন তারিখ ঘোষণা করতে হবে। তা না হলে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলবে। একই সঙ্গে শীতকালীন ছুটি বাড়ানোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে সব শিক্ষার্থীই প্রত্যাখ্যান করেছে।’ তবে গতকাল রাত ৯টার পরও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়নি প্রশাসন।
এদিকে শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। সভায় শাকসু নির্বাচন ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে শাকসু নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উপাচার্য। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. রফিকুল ইসলাম, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মন্তাবুর রহমান, স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন, সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম ও রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির।
বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সভায় শাকসু নির্বাচন, শিক্ষকদের সমস্যাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। শাকসু নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত জানাবে।
শাকসু নির্বাচন বিলম্ব হওয়ায় কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে তপশিল ঘোষণার কথা থাকলেও শুধু ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের কথা জানান উপাচার্য। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় পাওনা পরিশোধ এবং ২১ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন ছুটি পরিবর্তন করে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ক্লাস ও অফিস বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়। তবে উপাচার্যের এ ঘোষণার পরপরই এ তারিখ প্রত্যাখান করে উপাচার্যের দপ্তরে উপাচার্য, উপ উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, নির্বাচন কমিশনার এবং প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজদের, হল দখলবাজদের কথা শুনে এমন একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি পক্ষকে খুশি করতে এই তারিখ ঘোষণা করেছে। আমরা আগামী ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন চাই। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
বকেয়া ফি পরিশোধে শিথিলতা, শীতকালীন ছুটির সময় পরিবর্তন
এদিকে, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমালোচনার পর বকেয়া ফি পরিশোধের শর্তে শিথিলতা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের গঠনতন্ত্রের ৮ (ছ) ধারা অনুযায়ী নির্বাচনে ভোটার অথবা প্রার্থী হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় বকেয়া নিষ্পত্তির যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা আপাতত শিথিল করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৭ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচন ও আগামী ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি প্রথমবর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় পূর্বঘোষিত ২১ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন ছুটি পরিবর্তন করে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও অফিস বন্ধ থাকবে। তবে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা যথারীতি চলবে।
উপাচার্য বলেন, ‘তোমাদের আশঙ্কা রয়েছে ১৭ তারিখ নির্বাচন হলে ভোটার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নাও থাকতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনা করেই শীতকালীন ছুটির সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপরও ভোটারদের ক্যাম্পাসে রাখার জন্য যা করা দরকার সবকিছুই আলোচনা করে করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’
ডিবিটেক/এসডিআর/ইক



