ডিসেম্বরে গ্রিডে মিলবে তিনশত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
রূপপুরে প্রথম ফিশন বিক্রিয়া শুরু
- চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ফিশন বিক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি স্পর্শ করল রূপপুর
- বায়রার বি-২ লাইসেন্স প্রাপ্তির পর রাশিয়ার ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি থেকে তাপ উৎপাদন
- ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক সংযোগ এবং ২০২৭ সালে পূর্ণ ক্ষমতার রূপান্তর
দেশের জ্বালানি রূপান্তর, পারমাণবিক প্রকৌশল এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সক্ষমতা আধুনিকায়নে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত উপায়ে পরমাণুর বিভাজন বা ফিশন বিক্রিয়া (Nuclear Fission Reaction) সফলভাবে শুরু হয়েছে।
১১ অক্টোবর, রবিবার বিকেলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, কেন্দ্রটি সফলভাবে পারমাণবিক বিজ্ঞানের জটিলতম মাইলফলক ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে সক্ষম এলিট দেশগুলোর আন্তর্জাতিক ক্লাবে যুক্ত হলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) চুল্লিতে চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক লাইসেন্স বা ‘বি-২’ সাব-স্টেজ অনুমোদন দেয়। এই অনুমোদনের ভিত্তিতে রাশিয়ার অত্যাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্লাস (Generation III+) ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) রিঅ্যাক্টরে ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর নিউক্লিয়াসকে নিউট্রন কণা দ্বারা আঘাত করে শৃঙ্খল বিক্রিয়া সক্রিয় করা হয়। প্রাথমিক নিরাপত্তা প্রটোকল হিসেবে বর্তমানে রিঅ্যাক্টরটিকে তার মোট তাপীয় সক্ষমতার মাত্র ১ শতাংশেরও কম শক্তিতে পরিচালনা করে বিভিন্ন সেন্সর ও কুলিং সিস্টেমের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রিত ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে নির্গত তীব্র তাপশক্তি ব্যবহার করে চুল্লির বিশেষ সার্কিটের পানিকে উচ্চ চাপযুক্ত বাষ্পে রূপান্তর করা হবে। এই বাষ্পীয় গতিশক্তি টারবাইনের ঘূর্ণন ঘটিয়ে মূল জেনারেটরের মাধ্যমে মেকানিক্যাল শক্তিকে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতে রূপান্তর করবে। কেন্দ্রের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাওয়ার স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে; যার অধীনে রিঅ্যাক্টরের তাপ উৎপাদন ক্ষমতা প্রথমে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং পরবর্তীতে গ্রিড সিঙ্ক্রোনাইজেশনের প্রাথমিক ধাপে ৩ শতাংশ থেকে শুরু করে ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত লোড ক্যাপাসিটিতে বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে।
প্রকল্পের প্রকৌশলী ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রোসাটমের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বিক্রিয়া শুরুর পরবর্তী ৩০ থেকে ৪০ দিন চুল্লির অভ্যন্তরীণ কন্ট্রোল রড, প্রেসার ভেসেল, কুল্যান্ট প্রবাহ ও রেডিয়েশন শিল্ডিং সংক্রান্ত নিরাপত্তা প্যারামিটারগুলো সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করা হবে। সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হলে এবং বায়রার পরবর্তী ছাড়পত্র পাওয়া সাপেক্ষে আগামী নভেম্বর মাসের শেষ কিংবা ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যেই জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ (Trial Run) শুরু হবে।
প্রাথমিক ট্রায়াল রান পর্যায়ে গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর টানা ৭ থেকে ৮ মাস বিভিন্ন স্তরের লোড ক্যাপাসিটি, থার্মাল স্ট্যাবিলিটি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাই শেষে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ ইউনিটটি তার পূর্ণ সক্ষমতার ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/ডিএফএনপিএল/এসএমপি/এমআইএসটি//





