প্রকৌশল বিদ্যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে তাগিদ

আইইউটির ৩৮তম সমাবর্তনে ৬৫৯ গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান

  • ১৫টি ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ৭টি স্বর্ণপদক প্রদান
  • শিক্ষা ও গবেষণার উদ্ভাবন কারখানা, খামার ও প্রান্তিক মানুষের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান<

আইইউটির ৩৮তম সমাবর্তনে ৬৫৯ গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:১৪  

আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রকৌশল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার এবং মুসলিম উম্মাহর যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন। ১১ অক্টোবর, রবিবার গাজীপুরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসে জাঁকজমকপূর্ণ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

এবারের সমাবর্তনে ৬২৬ জন স্নাতক ও ৩৩ জন স্নাতকোত্তরসহ (২ জন পিএইচডি, ২৩ জন এম.এসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ও ৮ জন এম.এসসি টিই) মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৮২ জন ছাত্র ও ১৭৭ জন ছাত্রী রয়েছেন। দেশীয় ৬২৬ জন গ্র্যাজুয়েটের পাশাপাশি ওআইসির ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের ৩৩ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ডিগ্রি লাভ করেন। অ্যাকাডেমিক ফলাফলে অনন্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ ৩.৯৯৪ সিজিপিএ নিয়ে ওআইসি স্বর্ণপদক অর্জন করেন সিএসই বিভাগের সুমাইয়া আহমেদ রানী। এছাড়া আশফাক সিরাজ শুভ (এমই), মুহাম্মদ শাফায়াত জামিল (ইইই), খালিদ হাসান আদর (এসডব্লিউই), আদিবা জাহিন (সিই), ফারহান লাবিব (বিবিএ-টিএম) এবং তাসফিয়া মাহমুদকে (আইপিই) আইইউটি স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। বিভাগওয়ারী গ্র্যাজুয়েটের মধ্যে সিএসইতে ১৫৫, ইইইতে ১৪৯, এমপিইতে ১৪৭, সিইইতে ১২৬, বিটিএমে ৫৭ এবং টিভিইতে ২৫ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আধুনিক বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এআই ব্যবস্থা মুহূর্তেই তথ্য ও উত্তর তৈরি করতে পারলেও সেই সিদ্ধান্তের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণের মূল দায়িত্ব মানুষের বিচারবুদ্ধির ওপরই নির্ভর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত গবেষণার সুফল যেন কেবল ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ না থেকে কারখানা, খামার ও পিছিয়ে পড়া সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে দেশীয় বাস্তবতাভিত্তিক উদ্ভাবন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। বিশেষ করে ব্যয়বহুল প্রযুক্তির বিপরীতে সাশ্রয়ী ইঞ্জিনিয়ারিং সলিউশন তৈরির মাধ্যমে কৃষক, রোগী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের ইতিবাচক রূপান্তর ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আইইউটির প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাস স্মরণ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন, যিনি ১৯৮১ সালের ২৭ মার্চ ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত ও তৎকালীন ওআইসি মহাসচিব ড. হাবিব চাত্তিকে সাথে নিয়ে গাজীপুরের এ ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তর ও তাঁর ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতার কথা স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়ন কৌশলের সাথে আইইউটির ঐতিহাসিক উদ্দেশ্যের সরাসরি সংযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, ওআইসির মহাসচিবের প্রতিনিধি এবং গভর্নিং বোর্ডের সদস্যবৃন্দ। বর্তমানে আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এ বিদ্যাপীঠ মুসলিম বিশ্বের প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে নেতৃত্ব দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

//ডিবিটেক/এমএসআই/বিপিও/এমআইএসটি//