বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের কার্যক্রম ও প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রকল্পের সম্ভাবনা বিবেচনায় এর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল […] The post বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী first

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০০  

ঢাকা: মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের কার্যক্রম ও প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রকল্পের সম্ভাবনা বিবেচনায় এর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পটির গবেষক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি এর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।

গবেষকদের তথ্যমতে, প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে।

গবেষণার পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন এক থেকে তিন টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। প্রস্তাবিত প্ল্যান্ট স্থাপনে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

তাদের দাবি, প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।

গবেষকদের মতে, সরকারি সহায়তায় প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ কমানো এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারে এ প্রযুক্তি।

The post বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.