প্রথম ইউনিটে 'ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি' অর্জন 

রবিবার রূপপুরে শুরু নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া

  • স্বয়ংক্রিয় চাপ কমানোর ভালভ মেরামতের পর বায়রা চুল্লিতে বিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে
  • তিন শতাংশ শক্তিতে প্রথম বিক্রিয়া শুরু করে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা
  • বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী হিসেবে বাংলাদেশ যুক্ত হতে যাচ্ছে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তির অভিজাত ক্লাবে

রবিবার রূপপুরে শুরু নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া
৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৯  

উন্নত নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পারমাণবিক শক্তির অভিজাত ক্লাবে যুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর বহুমুখী কারিগরি প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আগামী ১১ অক্টোবর, রবিবার পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুরু হচ্ছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যাকে বলা হয় 'ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি'।

এর আগে ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) ফিজিক্স টেস্ট পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করে। এ দিন বায়রা চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মইনুল হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানের কাছে হস্তান্তর করেন।

বায়রা চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সব ধরনের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছাতে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আরও দুটি পরিচালন অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে। পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদন পাওয়ার পর বিক্রিয়া শুরুর প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রবিবারই এই ফিজিক্স টেস্ট শুরু হবে, তবে শতভাগ ঝুঁকিহীন কার্যকারিতা নিশ্চিতে আরও অতিরিক্ত পরীক্ষা করতে দু-এক দিন সময় বেশিও লাগতে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টরের স্বয়ংক্রিয় চাপ কমানোর বিশেষ ভালভ সিস্টেমে (পিওআরভি/পিওএসভি) কারিগরি জটিলতা দেখা দেওয়ায় লাইসেন্স প্রক্রিয়া এতদিন বিলম্বিত ছিল। পরে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিবিদ দল এসে বিভিন্ন জটিল ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশলে এটি সফলভাবে মেরামত করে এবং একাধিক স্তরের পরীক্ষায় এটি উত্তীর্ণ হয়। এর ফলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।

'ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি' ধাপে প্রথমে চুল্লির অভ্যন্তরে অত্যন্ত সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত শক্তিতে পারমাণবিক ফিশন বিক্রিয়া ঘটানো হবে। এ সময় চুল্লির অভ্যন্তরীণ সেন্সর, কুলিং সিস্টেম, নিয়ন্ত্রণ রড এবং সংবেদনশীল নিরাপত্তা সরঞ্জাম শতভাগ নিখুঁতভাবে সাড়া দিচ্ছে কি না তা সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে চুল্লিটি সক্ষমতার মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় পরিচালিত হবে। এরপর ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

সব পরীক্ষা সফল হলে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার লক্ষ্য রয়েছে। পূর্ণ শক্তিতে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে আরও প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগবে। রূপপুরের দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াটের সক্ষমতা থেকে প্রায় ২৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যা জ্বালানি আমদানির বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আনবে।

 //ডিবিটেক/ডিএমএইচ/এনএলসিবি/সিপিইউ//