চালু হচ্ছে রোবটিক সার্জারি সুবিধাও
ক্যানসার চিকিৎসায় আসছে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন
- ক্যানসার সেবা সহজলভ্য করতে নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন আনছে সরকার।
- চলতি বছরেই পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন দেশে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ।
- আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বছরব্যাপী সারা দেশে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন।
দেশের ক্যানসার চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য, উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে শিগগিরই দেশে ১৭টি অত্যাধুনিক রেডিওথেরাপি মেশিন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ৭ অক্টোবর, বুধবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। বায়োমেডিকেল প্রযুক্তি ও আধুনিক শল্যচিকিৎসার বিস্তার ঘটিয়ে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে পুনর্গঠনে সাই-টেক-ফার্স্ট দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে ছয়টি ঢাকায় এবং ১১টি ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থাপন করা হবে। এর ফলে ক্যানসার রোগীরা নিজ নিজ বিভাগীয় ও আঞ্চলিক এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যা ঢাকার কেন্দ্রভিত্তিক হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
তিনি আরও জানান, ক্যানসার চিকিৎসায় আধুনিক হাই-টেক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ঢাকার বাইরে উন্নত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো রোবটিক সার্জারির সুবিধা চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক চাহিদা অনুযায়ী মোট ১০টি রোবটিক সার্জারি মেশিনের মধ্যে চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই অন্তত পাঁচটি মেশিন দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচি চলবে। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি সরাসরি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।
দেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করে রোগীদের সুচিকিৎসা ও পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু-পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায় চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
//ডিবিটেক/জেএনও/এফটিপি/ডিপিও//





