তামাক আইনে ই-সিগরেট ও ইমার্জিং টোব্যাকো অন্তর্ভূক্তিতে স্বাগত জানিয়েছে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম
ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (HTP) সহ বিভিন্ন ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধ করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-কে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং।
জনকল্যাণমুখী এই অধ্যাদেশ জারি করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফোরামের সদস্যরা সরকারের এই সাহসী উদ্যোগকে অভিনন্দন জানায়।
অনুষ্ঠানে তরুণ বক্তারা বলেন, তামাক ব্যবহার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপ্রবণ কারণ। বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে এক লাখ ত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান আইনকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে সংশোধিত অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (HTP) সহ বিভিন্ন ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নিকোটিন পাউচকে প্রথমবারের মতো তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে, যা দেশের তরুণসহ সকল জনগোষ্ঠীকে তামাকের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৪৮ শতাংশ তরুণ প্রজন্ম। এর মধ্যে ৯.২ শতাংশ তরুণ তামাক ব্যবহার করে। এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে ই-সিগারেটের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে তরুণরা, হ্রাস পাবে তামাক ব্যবহার এবং তামাকজনিত অকাল মৃত্যুর হার কমে আসবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং কমবে পরিবেশগত ক্ষতিও।
নতুন অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ, তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ এবং প্যাকেটে ৭৫ শতাংশ সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযোজনের মতো উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফোরামের তরুণ সদস্যরা দাবি জানায়, আগামী নির্বাচিত সরকার দ্রুত এই অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করবে এবং জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রয় নিষিদ্ধসহ তামাক কোম্পানির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) পূর্ণ বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবে।
অনুষ্ঠানে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং-এর কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাসনিম হাসান আবির, খাদিজাতুল কুবরা, বায়েজিদ হোসেনসহ ইয়ুথ ফোরামের অন্যান্য সদস্যরা।
ডিবিটেক/বিএমও/একে







