চুরি ঠেকাতে আইনি নোটিশ জারি

বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিং লাইভ সম্প্রচারের দাবি

  • কার্গো থেকে লাগেজ বেল্ট সরাসরি সিসিটিভি সম্প্রচারের দাবি
  • লাগেজ চুরি বন্ধে ১০ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে আইনি নোটিশ
  • বিমানবন্দর কর্মী নিয়োগে দুদকের কড়া নজরদারির আহ্বান

বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিং লাইভ সম্প্রচারের দাবি
৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৯  

দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান মালামাল চুরি ও লুটপাট স্থায়ীভাবে বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি প্রযুক্তি এবং রিয়েল-টাইম সিসিটিভি ফুটেজ সরাসরি সম্প্রচারের জোরালো দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

৫ অক্টোবর, সোমবার জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এই আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মূল প্রবেশদ্বার হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ যাত্রী, পর্যটক, বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং রেমিট্যান্সযোদ্ধা প্রবাসী শ্রমিকদের লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগ উঠছে। উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে মালামাল খালাস করে কনভেয়ার বেল্টে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী ট্রানজিট সময়ে সক্রিয় একটি চক্র তালাবদ্ধ ব্যাগ কেটে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাৎ করছে। এই ধরনের অপরাধে যাত্রীরা শুধু চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন না, বরং বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে; যা সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সম্পত্তির অধিকার এবং ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবনের অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।

নোটিশে আরও দাবি করা হয়, রানওয়ে ও ব্যাগেজ সর্টিং এলাকায় ক্যামেরার অন্ধবিন্দু (ব্লাইন্ড স্পট) ও তদারকির ঘাটতিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে অসাধু গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও লোডাররা এই অপরাধ সংঘটিত করছে। তাই কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ খালাস, ট্রলিতে তোলা, র‌্যাম্প এলাকা পার হওয়া থেকে শুরু করে আগমনী কনভেয়ার বেল্ট পর্যন্ত পুরো পরিবহন প্রক্রিয়া উচ্চ রেজ্যুলেশনের সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে অ্যারাইভাল লাউঞ্জের বড় মনিটরে যাত্রীদের সামনে সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করতে হবে। এছাড়া নিরাপত্তা কিংবা তল্লাশির প্রয়োজনে কাস্টমস বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থা লাগেজ খুললে বা স্ক্যান করলে, সেই দৃশ্যও যাত্রীর সামনে ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি প্রদর্শনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি বিমানবন্দরের লোডার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে বড় অঙ্কের ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নোটিশে বলা হয়, অবৈধ আর্থিক লেনদেনে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের নৈতিক স্খলন থেকেই লাগেজ চুরির মতো অপরাধ ডালপালা মেলছে। তাই এসব পদে মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ কাঠামো প্রতিষ্ঠায় দুদকের নিয়মিত ও সক্রিয় নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে লাইভ সিসিটিভি সম্প্রচার ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিতের প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

//ডিবিটেক/এপিএন/এসএমপি/বিপিও//