কিউ-ক্যাশ মাইগ্রেশনে এটিএম-কার্ডে বিঘ্ন
ছয় দিন সীমিত ৩০ ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা
- কিউ-ক্যাশ সিস্টেম মাইগ্রেশনে ৪-১০ অক্টোবর সেবা সীমিত।
- এটিএম, কার্ড, পিওএস, কিউআর ও অনলাইন লেনদেনে প্রভাব পড়বে।
- বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র।
কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর কাজের কারণে দেশের ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা প্রায় ছয় দিন সীমিত থাকছে। ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্যাংকভেদে এটিএম, কার্ড, পিওএস, কিউআর, আইবিএফটি, এনপিএসবি ও ই-কমার্সসহ নির্দিষ্ট কিছু সেবা বন্ধ বা ব্যাহত থাকবে।
৫ অক্টোবর, সোমবার বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের পাঠানো খুদে বার্তা ও বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নত ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন করা হচ্ছে। নির্ধারিত কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো পুনরায় চালু হবে।
সেবার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে—অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, ব্যাংক আল-ফালাহ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক।
নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে এটিএম থেকে টাকা তোলা, পয়েন্ট অব সেল বা পিওএসে কার্ড ব্যবহার, কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন এবং কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন ফান্ড ট্রান্সফার করা যাবে না। এনপিএসবি ও ই-কমার্সভিত্তিক লেনদেনেও ব্যাংকভেদে সীমাবদ্ধতা থাকবে। তবে সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে একই সেবা একইভাবে বন্ধ থাকবে না; কোনো কোনো ব্যাংক বিকল্প চ্যানেলে নির্দিষ্ট সেবা চালু রাখার কথা জানিয়েছে।
মধুমতি ব্যাংক জানিয়েছে, ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাদের ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড, এটিএম, আইবিএফটি এবং কিউআর লেনদেন সেবা সাময়িক বন্ধ থাকবে। ব্যাংকটি উন্নত ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কিউ-ক্যাশ একটি কার্ড নেটওয়ার্ক, যা বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ও এটিএমকে একটি আন্তঃসংযুক্ত নেটওয়ার্কের আওতায় লেনদেনের সুবিধা দেয়। বিভিন্ন ব্যাংকের প্রকাশিত সদস্যতালিকাতেও কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কে একাধিক ব্যাংকের সংযুক্তির তথ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এর প্রভাবে আইটিসির তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে জানানো হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে গ্রাহকদের যথাযথভাবে অবহিত করার প্রয়োজন ছিল বলেও তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের আগে জানানো হলে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারতেন এবং ভোগান্তি কমানো সম্ভব হতো।
একই সময়ে বিপুলসংখ্যক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সীমিত থাকায় জরুরি সময়ে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন, কার্ডে কেনাকাটা কিংবা তহবিল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব গ্রাহক নির্দিষ্ট ব্যাংকের কার্ড বা কিউ-ক্যাশনির্ভর সেবা ব্যবহার করেন, তাদের নিজ নিজ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি দেখে কোন সেবা কখন বন্ধ থাকবে তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ব্যাংকিং খাতের প্রযুক্তি অবকাঠামো আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) ৫৭টি ব্যাংকের এটিএম, ৫৫টি ব্যাংকের পিওএস এবং ৫৬টি ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং ফান্ড ট্রান্সফার সংযুক্ত করেছিল।
//ডিবিটেক/এফটিএন/বিপিও/এমআইএসটি//





