বৈশ্বিক অবস্থান উন্নয়নে কৌশল নিয়ে আলোচনা
কুবির বিশ্ব র্যাঙ্কিং কর্মশালায় নোবিপ্রবির ফাহাদ
- কুবির বিশ্ব র্যাঙ্কিং কর্মশালায় রিসোর্স পারসন ছিলেন ড. ফাহাদ হুসাইন
- র্যাঙ্কিং সূচক, পদ্ধতি ও উন্নয়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন তিনি
- সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শক্তিশালী করার আহ্বান জানান
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নয়নে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিকীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব র্যাঙ্কিং বিষয়ক কর্মশালায় বিভিন্ন র্যাঙ্কিং কাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ সূচক ও কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার করণীয় তুলে ধরেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) র্যাঙ্কিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের অতিরিক্ত পরিচালক, নোবিপ্রবি সাস্টেইনঅ্যাবিলিটি কমিটির সদস্য সচিব ও সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহাদ হুসাইন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ‘বিয়ন্ড রেপুটেশন: দ্য স্ট্র্যাটেজিক পজিশনিং অব কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি অন দ্য গ্লোবাল র্যাঙ্কিং ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড এক্সটেনশন অফিস কর্মশালাটির আয়োজন করে।
কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে ড. ফাহাদ হুসাইন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন কাঠামো ও পদ্ধতি, গুরুত্বপূর্ণ সূচক এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নয়নের বিভিন্ন কৌশল ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিকীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন সূচকের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।
কর্মশালায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় অভিজ্ঞতা ও ধারণা বিনিময়ের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ র্যাঙ্কিং কৌশল, কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালীকরণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহাদ হুসাইন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে এগিয়ে যায়। পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে আমরা কীভাবে একে অপরকে সমৃদ্ধ করতে পারি এবং নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও এগিয়ে নিতে পারি—সেই চিন্তা থেকেই এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি।”
তিনি বলেন, “র্যাঙ্কিং শুধু একটি অবস্থান বা সংখ্যার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিকীকরণ ও সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের বিষয়গুলো গভীরভাবে জড়িত। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা।”
ড. ফাহাদ হুসাইন আরও বলেন, “সর্বোপরি, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করা।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরস্পরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরেও রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) আয়োজিত বিশ্ব র্যাঙ্কিং বিষয়ক কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন ড. ফাহাদ হুসাইন।
//ডিবিটেক/সামিয়া হোসেন মুনিয়া/এসএমপি/এমআইএসটি//





