জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা শিক্ষা

অনলাইনে আসছে সংশোধিত আইসিটি পাঠ্যক্রম

  • সংশোধিত আইসিটি সিলেবাস এক সপ্তাহের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ হবে
  • ফ্রিল্যান্সিংয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে
  • পেশাভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক নতুন কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে 

অনলাইনে আসছে সংশোধিত আইসিটি পাঠ্যক্রম
৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫২  

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধিত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি পাঠ্যক্রম আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মবাজারের উপযোগী করে তুলতে পেশাভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক নতুন কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

৩ সেপ্টেম্বর, শনিবার দিনাজপুর সরকারি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আটকে থাকলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়। পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা ও কর্মবাজারের চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষাব্যবস্থায় গতিশীলতা আনা জরুরি। এ লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ও কারিকুলাম হালনাগাদের কাজ শুরু হয়েছে এবং সংস্কার কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও সরকারের চাহিদা বিবেচনায় ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু করা হবে। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা তৈরির সুযোগ বাড়বে।

ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পেতে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সকালে দিনাজপুর সরকারি কলেজে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, প্রযুক্তি, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সারাদেশজুড়ে বিস্তৃত অধিভুক্ত কলেজগুলোর অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে দ্রুত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন এ কাজ দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মানুষ তৈরির ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, প্রযুক্তি ও কর্মদক্ষতার সুযোগ তৈরি করতে হবে। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

উপাচার্য বলেন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দিতে হবে। তাদের সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য।

তিনি দিনাজপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা গেলে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেই শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় পর্যায়ে এসেছে। এখান থেকে যারা ভালো করবে, তাদের জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ তৈরি হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর মাঠ থেকেই একদিন জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ করছে। দায়িত্ব নেওয়ার গত সাত মাসে তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে দুটি প্রশিক্ষণ সেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তরুণদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুগঠিত করতে ক্রীড়াঙ্গনের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।

ক্রীড়া খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এবারের রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিভাগের বিভিন্ন কলেজের জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও স্বর্ণপদক পাওয়া ১ হাজার ১৫৪ জন শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৭৫৪ জন ছাত্র এবং ৪০০ জন ছাত্রী। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ মোট ৭২টি ইভেন্টে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের উদ্যোগে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা ৬ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক অর্জনকারীরা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের পর বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দপ্তরের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ কামাল হাছান, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা এবং উপাধ্যক্ষ মো. কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্টরা।

//ডিবিটেক/এসপিএমপি/ এমভিএনও/বিপিসি//