হাট-বাজারের রাজস্বে সৌরবিদ্যুৎ

১০–১৫ শতাংশ অর্থ সৌর প্যানেলে ব্যয়ের নির্দেশ

  • হাট-বাজারের রাজস্বের ১০–১৫ শতাংশ সৌর প্যানেলে ব্যয়ের নির্দেশ
  • উপজেলা পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান
  • সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে বড় প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ

১০–১৫ শতাংশ অর্থ সৌর প্যানেলে ব্যয়ের নির্দেশ
৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪১  

হাট-বাজার থেকে আদায় করা রাজস্বের ১০–১৫ শতাংশ সৌর প্যানেল স্থাপনে ব্যয় করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ বাসভবনেও সৌর প্যানেল স্থাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

৩ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে ‘সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

সম্প্রতি চীন সফরে বিশাল আকারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নে সব উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে তৎপর থাকার নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে। তবে অনেক সড়ক প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের রাস্তা প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ ও বৃহৎ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। সারা দেশ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের প্রস্তাব এলে মূল বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ অর্থ থেকে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন।

কার্পেটিংয়ের পর সড়ক সম্পূর্ণ শক্ত হতে সাধারণত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী এ সময় সড়ক পাহারায় ঠিকাদারকে দিনে ও রাতে দুজন করে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করারও নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে অর্থবছর হবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ। এতে আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে।

তিনি আরও জানান, জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে সংসদে একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি কাজ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থা, দ্বিকক্ষ সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এ কমিটির আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে।

মতবিনিময় শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে মূল্যায়নভিত্তিক আলোচনা করা হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. শহীদুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন। এ ছাড়া অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/ এমজেবি/এসপিএম/বিপিসি//